0%

দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষিতা মা! গুরুতর চোট নিয়েও ভর্তি হলেন না হাসপাতালে, কারণ জানলে চোখে জল আসবে

সবদিক নিউজ: ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের সেই রক্ত হিম করা স্মৃতি আবারও ফিরে এল দিল্লির রাজপথে। সোমবার রাতে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির রানি বাগ এলাকায় একটি চলন্ত বাসে এক ৩০ বছর বয়সী মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ঘটনায় অভিযুক্ত বাসের চালক উমেশ এবং কন্ডাক্টর রামেন্দ্রকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনার বীভৎসতার পাশাপাশি নির্যাতিতার ঘরোয়া পরিস্থিতির কথা সামনে আসতেই শিউরে উঠছেন সকলে।

কী ঘটেছিল সেদিন রাতে?

পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা মহিলা মঙ্গলপুরীর একটি কারখানায় কাজ করেন। সোমবার রাতে কাজ সেরে প্রীতমপুরার বাড়িতে ফেরার সময় সরস্বতী বিহার এলাকায় বাসের কন্ডাক্টরের কাছে সময় জানতে চেয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, কন্ডাক্টর তাঁকে ইশারায় কাছে ডাকে এবং জোর করে বাসের ভেতরে টেনে নেয়। এরপর চলন্ত বাসে টানা ২ ঘণ্টা ধরে চালক ও কন্ডাক্টর মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে। বেশ কয়েক কিলোমিটার ঘোরার পর নাংলোই মেট্রো স্টেশনের কাছে তাঁকে ফেলে রেখে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।

“বাচ্চাদের রান্না করবে কে?”

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিলাকে উদ্ধার করে এবং বাবাসাহেব আম্বেদকর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর শরীরের আঘাতের গুরুত্ব দেখে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা ওই মা তা অস্বীকার করেন। জানা গিয়েছে, তাঁর স্বামী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ঘরে রয়েছে ৮, ৬ এবং ৪ বছরের তিন ছোট মেয়ে। কান্নায় ভেঙে পড়ে মহিলা চিকিৎসকদের জানান, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলে বাড়িতে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মতো কেউ নেই।

গ্রেফতার ২, বাজেয়াপ্ত ঘাতক বাস

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর গণধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক বাসটি বিহারের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত একটি স্লিপার বাস। বাসের জানালায় ঘন পর্দা লাগানো থাকায় বাইরে থেকে ভেতরে কিছু দেখা সম্ভব ছিল না। পুলিশ ওই রুটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। ধৃতদের বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker