0%

নিজেই ঋণজর্জর! সেই পাকিস্তানই এবার আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কের বোর্ড চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক আর্থিক তহবিল বা আইএমএফ-এর কাছে কোটি কোটি ডলার ঋণের কবলে পাকিস্তান। কিন্তু সেই দেশই এবার আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কের বোর্ড চেয়ারম্যানের পদে। ২০২৭ সালের জন্য আইএমএফ ও ডবলিউবিজি-র সভাপতির দায়িত্ব সামলাবে তারা। দীর্ঘ ৭৩ বছর পরে এই দায়িত্ব পেল তারা।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের IMF-বিশ্বব্যাঙ্কের বার্ষিক সম্মেলনে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আহাদ চিমা খানকে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশটির তরফে এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করছে। তবে বলে রাখা ভালো পাকিস্তান বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার অর্থ এই নয় যে, পাকিস্তান মোটেই IMF বা বিশ্ব ব্যাঙ্কের ঋণের নীতিনির্ধারক অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ হাতে পেয়ে যাবে। স্রেফ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে আলাদা করে এর থেকে বড় কোনও ফায়দা তারা তুলতে পারবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের অর্থনীতির কোমর ভেঙেছে বহু আগেই। গত কয়েক বছর ধরে আইএমএফের ঋণের উপর টিকে রয়েছে শাহবাজের দেশ। সেই ধারা অব্যাহত রেখে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বারবারই আইএমএফের কাছে যায় ইসলামাবাদ। গত ডিসেম্বরেও গিয়েছিল। তবে সন্ত্রাসের মদতদাতা পাকিস্তানকে যাতে এই ঋণ না দেওয়া হয় তা নিয়ে স্পষ্ট যুক্তি দেওয়া হয় ভারতের তরফে।

অভিযোগ করা হয়, অতীতেও একাধিকবার ঋণ নিয়েছে পাকিস্তান। তবে সেই অর্থ তারা সঠিক কাজে ব্যবহার করেনি। সরাসরি সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের আশঙ্কা প্রকাশ করে ভারত জানিয়েছিল, এই অর্থ পাকিস্তান আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে অপব্যবহার করতে পারে ফলে এই ঋণ কোনওভাবেই দেওয়া উচিত নয়। ঋণ গ্রহণের পর যে সকল শর্ত মেনে চলা উচিত অতীতেও সে নিয়ম লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। ফলে এই অর্থ অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত আপত্তি জানালেও ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটের ফলাফল ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। এবার আইএমএফের মাথাতেও বসে পড়ল পড়শি দেশ।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker