0%

নেড়া পোড়ার সঠিক নিয়ম ও টোটকা জানেন?

বসন্তোৎসবের ঠিক আগের দিন, ফাল্গুনী পূর্ণিমার গোধূলি বেলায় পালিত হয় ‘হোলিকা দহন’ বা আমাদের পরিচিত ‘ন্যাড়াপোড়া’। এই উৎসব কেবল খড়কুটো জ্বালানো নয়, বরং শাস্ত্র মতে এটি অশুভ শক্তিকে পুড়িয়ে জীবনের অন্ধকার দূর করার এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ন্যাড়াপোড়ার আগুনে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস অর্পণ করলে ঘুচে যায় বাস্তুদোষ, আর পরিবারে ফেরে অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি।

আগামী ৩ মার্চ ফাল্গুনী পূর্ণিমায় আয়োজিত হতে চলেছে এই পবিত্র অনুষ্ঠান। সংসারের শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে ন্যাড়াপোড়ার সময় কী কী করবেন, দেখে নিন একনজরে:

ন্যাড়াপোড়ার আগুনে যা অর্পণ করবেন
জ্যোতিষশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, আগুনের শিখায় নিচের বস্তুগুলি আহুতি দিলে সুফল পাওয়া যায়:

গোবর ঘুঁটে ও কর্পূর: ন্যাড়াপোড়ার আগুনে ঘুঁটে এবং কর্পূর দিলে গৃহের নেতিবাচক শক্তি বা ‘ইভিল এনার্জি’ দূর হয়।

কালো তিল ও সর্ষে: পরিবারের সদস্যদের ওপর কোনো কু-দৃষ্টি থাকলে বা শারীরিক সমস্যা চললে, এক মুঠো কালো তিল ও সর্ষে আগুনে নিক্ষেপ করুন। মনে করা হয়, এতে গ্রহের অশুভ দশা কেটে যায়।

নারকেল ও বাতাসা: আর্থিক সমৃদ্ধি ও লক্ষ্মীর কৃপা লাভ করতে ন্যাড়াপোড়ার আগুনে গোটা শুকনো নারকেল, বাতাসা এবং লবঙ্গ অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়।

অক্ষত চাল ও সিঁদুর: সৌভাগ্য ফেরাতে অল্প আতপ চাল বা অক্ষত চাল এবং এক চিমটি সিঁদুর আগুনের শিখায় নিবেদন করতে পারেন।

পালনের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
ন্যাড়াপোড়া বা হোলিকা দহনের সময় কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন:

১. প্রদক্ষিণ বিধি: ন্যাড়াপোড়ার আগুন জ্বলে উঠলে সাতবার বা অন্তত তিনবার সেই আগুনকে প্রদক্ষিণ করুন। এই সময় মনে মনে নিজের এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করা উচিত।
২. অশুভ ছায়া থেকে মুক্তি: ন্যাড়াপোড়ার পর সেই ছাই বাড়িতে এনে প্রধান দরজার বাইরে ছিটিয়ে দিলে অশুভ শক্তির প্রবেশ বাধা পায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।
৩. গর্ভবতী মহিলাদের সাবধানতা: শাস্ত্র মতে, গর্ভবতী মহিলাদের আগুনের খুব কাছে যাওয়া বা ন্যাড়াপোড়া সরাসরি দেখা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এই সময় নেতিবাচক শক্তি সক্রিয় থাকে।
৪. শুদ্ধ বসন: শুদ্ধ মনে এবং পরিষ্কার পোশাকে এই আচারে অংশ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker