‘নেত্রীকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে!’ তৃণমূল ভবন থেকে একুশে জুলাই নিয়ে সাফ জবাব আকরুজ্জামানের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি খবরের পাতার শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে মেট্রোপলিটন ভবনের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল নিয়ে কালীঘাট বনাম ঋতব্রত অনুগামীদের দড়ি টানাটানি! এরই মধ্যে তৃণমূল দলের (TMC) সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা ফেলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। তবে তার আগে এদিন গাদ্দারি থেকে একুশে জুলাই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আকরুজ্জামান (Akhruzzaman)। কি জানালেন তিনি? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন আকরুজ্জামান
এদিন আকরুজ্জামান বলেন, উনি কি বলেছেন আমার জানা নেই, আমি দেখিনি। বেইমানি কে করেছে আমাদের জানা নেই। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি আমাদের সিনিয়ার নেতা উনি সাংবাদিকদের সামনেই বলেছিলেন যে নেত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উনি কাদের নিয়ে চলবেন, রক্তের সম্পর্কের সাথে নাকি গ্রাস রুটে কাজ করা তৃণমূল কর্মীদের সাথে থাকবেন? এই বক্তব্য একাধিকবার সকলের সামনে রেখেছি।
এরপর তিনি আরও বলতে থাকেন, উনি যদি গ্রাস রুট লেভেলের কর্মীদের যদি চান, আমরা ওনাকে মাথায় করে নিয়ে চলব। সিদ্ধান্ত ওনাকে নিতে হবে। উনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রক্তের সঙ্গে থাকবেন, আমাদের উনি ছেড়ে দিয়েছেন। তাই তৃণমূলটাকে বাঁচানোর স্বার্থে আমরা দলটিকে এড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
আরও পড়ুনঃ কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী, স্বচ্ছ নিয়োগের উদ্দেশ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
কার দখলে থাকবে তৃণমূল ভবন?
তৃণমূল ভবন শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে মমতা অনুগামীদের কাছে নাকি ঋতব্রত অনুগামীদের কাছে? এই প্রশ্নের উত্তরে আকরুজ্জামান বলেন, দেখুন তৃণমূল ভবন তাঁর নিজের ভবন নয়। এক ব্যক্তির থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। উনি নিজেই জানান, তৃণমূল নেত্রীর সাথে তিনি কথা বলেছেন ও দিদি কথা দিয়েছেন জুলাই মাস থেকে এখানে তৃণমূল কার্যালয় থাকবে না। ল্যান্ড লর্ড যখন এটা আমাদের বললেন, আমরা তখন তাঁর সাথে যোগাযোগ করে জানাই যে এটা আমাদের কাছে একটা আবেগ, এই অফিস বা ভবন থেকেই আমাদের গোটা বাংলায় দল পরিচালনা করে থাকি। আপনি আমাদের তৃণমূল ভবন যতক্ষণ না তৈরী হচ্ছে আমাদের বসার অনুমতি দিন। এর জন্য যা যা করার আমরা করব। বাড়ির মালিকের অনুমতি নিয়ে আমরা সেখানে গিয়েছি ও বসেছি। আপনারা এটাও দেখেছেন গতকাল আমাদের সাথে জনাব ফিরহাদ হাকিম সাহেবও ছিলেন। বাড়ির মালিকের সাথে ববি হাকিমের এগ্রিমেন্ট ছিল। তাই আসল এগ্রিমেন্টের টেনেন্ট যেহেতু আমাদের সাথেই আছে তাই নতুন করে এটা বলার অপেক্ষা থাকে না।
কি হবে তৃণমূলের প্রতীকের?
প্রতীক কেড়ে নিতেই পারে কিছু যায় আসে না বলে মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘গদ্দারী’ শব্দটা কে নিয়ে এসেছে? আপনারা সকলেই জানেন জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ছিলেন রাজীব গান্ধী দেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী। যিনি ওনাকে কলকাতার রাজপথ থেকে তুলে সর্বভারতীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করেছিলেন। উনি সেই কংগ্রেসের বুকে ছুরি মেরে বিজেপির মদতে কংগ্রেসকে দুর্বল করার জন্য দল করেছে। আগামী দিনের প্রজন্ম যখন গদ্দারির সংজ্ঞা খুঁজবে তখন ইতিহাস লেখা হবে। এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশের মানুষ কি দেখল? দুটো জোট লড়াই করছে একটা এনডিএ আরেকটা ইন্ডিয়া। ইন্ডিয়া জোটকে দুর্বল করে এনডিএ এবং বিজেপির হাতকে শক্ত করতে কার ভূমিকা ছিল, দেশের মানুষ দেখেছে।
আরও পড়ুনঃ এক ক্লিকেই হবে সব কাজ? যুগান্তকারী e vidhan এর সুবিধা আসছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায়
২১শে জুলাই কোথায় কিভাবে হবে সভা?
উত্তরে আকরুজ্জামান সাফ জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিসে দাঁড়িয়ে কোথায় সভা করবেন সেটা ওনার ব্যাপার। ওনার ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু আমরা তৃণমূল কংগ্রেস, আমাদের কর্মসমিতি বসে আমরা একুশে জুলাই পালন করব। আগেও বলেছি এখনও বলছি, নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরা একুশে জুলাই পালন করব আপনারাও জানতে পারবেন। আর কি বললেন? দেখুন নিচের ভিডিওতে।



