0%

নৌকাতেই হবে যোগাসন! যোগ দিবসের আগে বাবুঘাটে আসছে সুন্দরবনের ৫০০ জলযান

সবদিক নিউজ: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী ২১ জুন কলকাতার বাবুঘাটে আয়োজিত হতে চলেছে যোগ কার্নিভাল। প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সুন্দরবন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক লঞ্চ ও ভুটভুটিকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, লঞ্চ ও ভুটভুটি মিলিয়ে প্রায় ৫০০টি জলযানকে আগামী ১৮ জুনের মধ্যে বাবুঘাটে পৌঁছতে হবে। জানা গিয়েছে, ১৯ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সুন্দরবনের জলযানগুলি বাবুঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় রাখা হবে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ জলযানে যোগাভ্যাস করবেন। সেই কারণেই সুন্দরবন থেকে এত বড় সংখ্যক জলযান কলকাতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

তবে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সুন্দরবনের পর্যটন পরিষেবায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যাপ্ত জলযান না থাকায় ১৬ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সুন্দরবনের জঙ্গলে পর্যটকদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে ইলিশ উৎসবের সময় পর্যটন শিল্প বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এই সময় বহু পর্যটক অগ্রিম বুকিং করে এসেছিলেন। ইলিশ উৎসব ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু হঠাৎ করে জলযান তুলে নেওয়া এবং জঙ্গলে প্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্তে তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এক পর্যটন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, আগে থেকে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ বা আভাস পাওয়া গেলে নতুন বুকিং নেওয়া হত না। এখন দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরাও সমস্যায় পড়ছেন।

অন্য এক ব্যবসায়ীর দাবি, সমস্ত জলযানকে বাবুঘাটে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ নির্দেশ মানতে না চাইলে বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট বা বিএলসি বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে বোট ইউনিয়নের সদস্যদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করেছে গোসাবা ব্লক প্রশাসন, পুলিশ এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে সরকারি নির্দেশের কথা স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনিক মহলের। সুন্দরবন ট্যুরিস্ট মেকানাইজড বোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আমিরুল মিদ্দা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী লঞ্চ ও ভুটভুটিগুলিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য বাবুঘাটে যেতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে বিএলসি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। সেই কারণেই ইলিশ উৎসব-সহ সুন্দরবনের পর্যটন কার্যক্রম প্রায় এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

যোগ দিবসের প্রস্তুতি একদিকে জোরকদমে চললেও, অন্যদিকে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker