পালিয়েও মিলল না রেহাই! অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজকে ধরতে কীভাবে অভিযান চালাল এসটিএফ

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘদিনের খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Debraj Chakraborty) গ্রেপ্তার করল তদন্তকারী সংস্থা। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর আইনি সুরক্ষার আবেদন খারিজ করার পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে আসছিলেন না বলে পুলিশের দাবি। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন একটি হোটেলে আত্মগোপন করে থাকার খবর পেয়ে বুধবার যৌথ অভিযান চালায় পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
কীভাবে দেবরাজের (Debraj Chakraborty) খোঁজ পেল তদন্তকারী সংস্থা?
তদন্তকারীদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেবরাজের অবস্থান চিহ্নিত করতে প্রযুক্তিগত নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় সূত্র থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছিল। জানা যায়, বাঘমুণ্ডি ও অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিতি ছিল। ওই অঞ্চলের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগের সূত্র মিলেছিল তদন্তে। সেই তথ্য যাচাই করেই বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর লুকিয়ে থাকার জায়গা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, কেষ্টপুরের প্রোমোটার অভিজিৎ সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানায় দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। এরপর তদন্তের পরিধি বাড়তে থাকে। বিধাননগরে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, তোলাবাজি, জমি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার একাধিক অভিযোগে তাঁর নাম উঠে আসে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। প্রথম দফায় আদালতের সুরক্ষা পেলেও পরবর্তী আবেদনে সেই সুবিধা আর বজায় থাকেনি।
উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা দেবরাজের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় যুব তৃণমূলের কর্মী হিসেবে। পরে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন এবং বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হন। কিছুদিন পর ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। পরবর্তীকালে স্ত্রী অদিতি মুন্সিকেও সক্রিয় রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে অদিতি মুন্সি বিধায়ক নির্বাচিত হন।
আরও পড়ুন : ‘পরিস্থিতি খুব খারাপ’, বাস-ট্রাম থেকে টোটো পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বড় ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রীর
দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি গড়ে তোলা, তোলাবাজি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল। পাশাপাশি তাঁর ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছিল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। আদালত থেকে আইনি সুরক্ষা না পাওয়ার পর তদন্ত আরও গতি পায়। অবশেষে পুরুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার আদালতের নির্দেশ ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



