প্রশ্ন প্রস্তুতকারীদের জন্য কড়া নিরাপত্তায় লকডাউনের ব্যবস্থা! নিট পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ

সবদিক নিউজ:দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ঘিরে তীব্র বিতর্কের আবহে এবার পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করল জাতীয় পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা নিট পুনঃপরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জালিয়াতিমুক্ত রাখতে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ব্যক্তিকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রশ্ন প্রস্তুতকারী, মডারেটর, অনুবাদক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মীদের পুনঃপরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যত ‘লকডাউন’-এর মধ্যে থাকতে হবে। এই সময় তাঁদের মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কোনও সুযোগ থাকবে না। পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রশ্নফাঁসের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নির্মূল করাই এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিট (NEET) পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের:
উল্লেখ্য, গত ২ মে অনুষ্ঠিত নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষার পরপরই বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। তদন্তভার গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন অভিযুক্ত এনটিএ-র সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একাধিক অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদও রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। এই ঘটনাই পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় এনটিএ।
একাধিক ব্যর্থতার হয়েছেন সম্মুখীন! পাশে ছিল পরিবার, ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় IFS অফিসার হয়ে স্বপ্নপূরণ সুস্মিতার
পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে কোনও ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সেজন্য এবার প্রশ্নপত্র প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট সুরক্ষিত স্থানে রাখা হচ্ছে, যেখানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ কিংবা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইন্টারনেট ব্যবহারের উপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। বাইরের কারও সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অনুমতি নেই এবং নির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া কেউ ওই নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। ২১ জুন পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
এনটিএ জানিয়েছে, শুধু প্রশ্ন প্রস্তুতকারীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখাই নয়, গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাকেই বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ভাষান্তর, যাচাই, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং পরিবহণ—প্রতিটি ধাপে একাধিক স্তরের নজরদারি ও নিরীক্ষা চালানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিচয় ও কার্যক্রমও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হচ্ছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল এবং শারীরিক উভয় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

চিকিৎসার প্রয়োজনে মিলবে মদ্যপানের অনুমতি! ভারতের এই ‘ড্রাই স্টেট ‘-এ চালু হল নতুন নিয়ম
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রশ্নপত্র পরিবহণেও এবার বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে ভারতীয় বায়ুসেনার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণকেন্দ্র থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর পুরো প্রক্রিয়া কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি চালান বিশেষ নজরদারির আওতায় থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে তা পৌঁছে দেওয়া হবে। গতবারের বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে এনটিএ এবং কেন্দ্র সরকার এবার কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। তাই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পথে হাঁটছে প্রশাসন (NEET)।




