0%

বাংলায় যে কোনও মূল্যে ‘অপরাধের সংস্কৃতি’ বন্ধ করতে হবে: দিলীপ ঘোষ

নিউটাউন, ১৫ সেপ্টেম্বর : পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সমাজবিরোধী শক্তির দাপট ছিল বলে দাবি করে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, এই ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব আইন প্রণয়ন করবে। আইনশৃঙ্খলা আরও কঠোর করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিলীপ ঘোষ বলেন, বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে সমাজবিরোধী শক্তির আধিপত্য ছিল। রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে তারা সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। ‘তোলাবাজি’, ‘সিন্ডিকেট’ এবং ‘কাটমানি’র মতো শব্দগুলি বাংলাতেই বেশি শোনা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর ফলে রাজ্যের শিল্প ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি তাঁর।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব আইন করবে। প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পুলিশকর্মীদেরও কোনও ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে। যে কোনও মূল্যে এই ‘অপরাধের সংস্কৃতি’ বন্ধ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা কোন পথে এগোবে এবং কীভাবে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে মানুষকে শিক্ষিত করা যায়, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বহু আলোচনা হলেও এতদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘ আলোচনা, সেমিনার এবং বিভিন্ন মহলের মতামত নেওয়ার পর জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পর সমাজ এর সুফল পাবে, যদিও তার জন্য কিছুটা সময় লাগবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, তাঁর দল শাসক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। পুরনো, নতুন, ভালো বা খারাপ—যাই হোক না কেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাঁরা ঢুকতে চান না। নিজেদের সমস্যা নির্বাচন কমিশনের কাছে নিয়ে গিয়ে সমাধান করার পরামর্শ দেন তিনি। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে তাদের নির্বাচনী লড়াই আরও জোরদার হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরকারি দলের নাম ও প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে লড়বে বলে দাবি করেছে। তবে দুই গোষ্ঠীর দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

–আইএএনএস

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker