বাতিল হতে পারে রাজ্যের ১.৬৯ কোটি কাস্ট সার্টিফিকেট! আপনারটা বাঁচবে তো? বড় নির্দেশ দিল সরকার

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটের অভিযোগ ঘিরে এবার কড়াকড়ি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of West Bengal)। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে রাজ্যে ইস্যু হওয়া SC, ST ও OBC শ্রেণির প্রায় ১.৬৯ কোটি জাতিগত শংসাপত্র ফের যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার তাগিদে অতীতে বহু ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই ছাড়াই সার্টিফিকেট অনুমোদিত হয়েছে। তাই এবার গোটা প্রক্রিয়াকে নতুন করে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।
কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাই নির্দেশিকা সরকারের (Government of West Bengal)
রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর সূত্রে খবর, ১৪ মে ২০২৬ তারিখে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের কাছে বিশেষ নির্দেশ পাঠিয়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত যে বিপুল সংখ্যক কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, তা পুনরায় যাচাই করতে হবে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই সময়কালে প্রায় ১ কোটি তফসিলি জাতি, ২১ লক্ষ তফসিলি উপজাতি এবং প্রায় ৪৮ লক্ষ OBC সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। বিশেষ নজরে রয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া নথিগুলি।
প্রশাসনিক তথ্য বলছে, ১০টি পর্যায়ে মোট প্রায় ৪৭.৮০ লক্ষ সার্টিফিকেট বিলি করা হয়। এর মধ্যে SC শ্রেণির ৩২.৫১ লক্ষ, ST শ্রেণির ৬.৬৫ লক্ষ এবং OBC শ্রেণির প্রায় ৮.৬৪ লক্ষ শংসাপত্র রয়েছে। সরকারি মহলের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী সার্টিফিকেট দেওয়ার আগে SDO অফিস বা কলকাতার ক্ষেত্রে DWO দফতরের মাধ্যমে বিস্তারিত নথি যাচাই হওয়ার কথা। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া যথেষ্ট কড়াভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই নতুন করে রিভেরিফিকেশনের সিদ্ধান্ত। প্রয়োজনে সেই সমস্ত ভুয়ো নথি বাতিলও করা হতে পারে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
এমনকি কোনও সরকারি কর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ভোটার তালিকাতেও পড়তে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক এসআইআর প্রক্রিয়ায় কাস্ট সার্টিফিকেটকে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে যাচাইয়ে কোনও নথি ভুয়ো প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : বাংলার সরকারি কর্মীদের ‘আচ্ছে দিন’! গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার
তবে ১.৬৯ কোটি সার্টিফিকেট সব বাতিল করা হচ্ছে না। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানোর বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। ভুয়ো শংসাপত্রের মাধ্যমে সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা রুখে প্রকৃত প্রাপকদের অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।



