0%

বিধায়কের উপস্থিতিতে কোন্নগরে চলল বুলডোজার, ভাঙা পড়ল টোল অফিস

সবদিক নিউজ: উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লির পর এবার খোদ পশ্চিমবঙ্গেও দেখা গেল ‘বুলডোজার অ্যাকশন’। কোন্নগর রেল স্টেশন আন্ডারপাসের সামনে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বেআইনি টোল আদায় অফিস বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, স্বয়ং উত্তরপাড়ার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এই ঘটনার পর কোন্নগরের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— টোল অফিস তো ভাঙা হলো, কিন্তু এলাকার বেআইনি বহুতলগুলোর অবৈধ অংশ কবে ভাঙা হবে?

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোন্নগর রেল স্টেশনের আন্ডারপাসে বেআইনিভাবে টোল গেট বসিয়ে এতদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হচ্ছিল। ভোটে জিতে আসার পর বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী কোন্নগর পুরসভায় গিয়ে এই টোল আদায়ের বৈধ অনুমতিপত্র দেখতে চান। কিন্তু পুরসভা কর্তৃপক্ষ এই সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেনি। জানা যায়, বিগত ২০০৮ সালে এই আন্ডারপাসে টোল আদায়ের জন্য একটি সংস্থাকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে সেই অনুমোদন পত্র আর কখনও রিনিউ বা নবীকরণ করা হয়নি। এতদিন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবেই এই তোলাবাজি চলছিল। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকার নির্দেশ দিয়েছিল যে, অনুমোদনহীন যত টোল প্লাজা আছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই বিধায়ক প্রথমে পুলিশকে এই টোল আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে শুক্রবার বুলডোজার চালিয়ে আন্ডারপাসের সামনের মূল অফিসটি ভেঙে দেন। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, উত্তরপাড়ায় মাত্র শুরু হলো, আগামীদিনে কোনও বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। বেআইনি পার্টি অফিস হোক বা বাড়ি— সবার বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই যেকোনোও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বর্তমান সরকার। তিলজলা থেকে হাওড়া— সর্বত্রই বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে তৎপরতা দেখাচ্ছে পুরসভাগুলি। সম্প্রতি গড়িয়া শ্মশানের কাছেও পুরসভার তরফ থেকে বুলডোজার চালিয়ে একাধিক অবৈধ মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়। এর আগে গড়িয়ার মিতালি সংঘের মাঠের পাশের একটি বিতর্কিত ক্লক টাওয়ার ভাঙতেও একই রকম ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ দেখেছিল সাধারণ মানুষ।

বিগত ২০২৩ সালে নির্মিত এই ক্লক টাওয়ারটি তৈরির পিছনে তৎকালীন দাপুটে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিশেষ উদ্যোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। এমনকি ভাঙার আগে পর্যন্ত সেখানে প্রাক্তন মন্ত্রীর ছবিও জ্বলজ্বল করছিল। অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে গায়ের জোর খাটিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই টাওয়ারটি তৈরি করা হয়, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে আদালত এটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় কাউন্সিলরের মদতে কিছু মহিলাকে ঢাল করে আন্দোলন করানো হয় এবং আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আর কোনও রাজনৈতিক চাপ খাটেনি; সোজাসুজি বুলডোজার নামিয়ে সেই বেআইনি ক্লক টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেয় পুরসভা।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker