‘বেআইনিভাবেই..’, IPAC মামলায় নয়া মোড়, সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা হলফনামা রাজ্যের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আইপ্যাক দপ্তরে ইডি অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আইনি লড়াই আরও জোরালো হল। রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে পাল্টা হলফনামা দিয়ে দাবি করেছে, এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার কোনও মৌলিক অধিকার ইডির নেই। পাশাপাশি তল্লাশির পদ্ধতি নিয়েও একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য। মঙ্গলবার আবার এই মামলার শুনানি হতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) জমা দেওয়া হলফনামা কী জানিয়েছে রাজ্য?
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। রাজ্যের তরফে জমা দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় যে মামলা করেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধারায় মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য মামলা করা যায়, কিন্তু ইডির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয় বলে দাবি রাজ্যের। রাজ্যের আরও অভিযোগ, আইপ্যাকের দপ্তরে তল্লাশি চালানোর আগে কোনও আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি। এটি সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা, অর্থাৎ জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। তাই এই তল্লাশি অভিযান বেআইনি বলেই দাবি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের দায়ের করা তিনটি এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস জারি করে দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। যে দুই জায়গায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল, সেখানকার এবং আশপাশের এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
কী থেকে ঘটনার সূত্রপাত?
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে সেদিন কলকাতায় জোড়া অভিযান চালায় ইডি। একটি দল হানা দেয় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে, আরেকটি দল যায় লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন ফেলে দেয়।
ইডি অভিযানের খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে অভিযোগ। ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রতীকের বাড়ি ও আইপ্যাক দফতরে ঢুকে নথি, ফাইল ও ল্যাপটপ বের করে আনেন। এই ঘটনায় তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তবে ৯ জানুয়ারি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ ওই মামলার শুনানি আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি করে দেন।

আরও পড়ুনঃ রেশন ব্যবস্থায় বড় বদল! চাল-গমের বদলে সরাসরি ব্যাঙ্কে টাকা দেবে কেন্দ্র, জানুন নতুন পরিকল্পনা
পরে ইডি দাবি করে, এই তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তের অংশ এবং এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। তবে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করে যে, ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইডি অভিযান চালিয়েছে। তাদের দলের সংবেদনশীল নথি, প্রার্থীতালিকা এবং নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত তথ্য চুরি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। যদিও ইডি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এখন নজর মঙ্গলবারের সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) শুনানির দিকে।



