0%

ভারত নিয়ে জারদারির মন্তব্যে কড়া জবাব দিল দিল্লি, ‘নিজেদের রেকর্ড দেখুন’, পাকিস্তানকে তোপ বিদেশ মন্ত্রকের

সবদিক নিউজ:ভারত (India) ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা ইস্যুতে উত্তপ্ত। এবার সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হল ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার ও মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাকে ঘিরে বিতর্ক। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। জারদারি দাবি করেছিলেন, ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি পাকিস্তানের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘অযাচিত’, ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মন্তব্য বলে আখ্যা দিয়েছে।

ভারত (India) নিয়ে জারদারির মন্তব্যে কড়া জবাব দিল দিল্লি

এই বিতর্কের সূত্রপাত বারাণসীর ঐতিহাসিক গঞ্জ শহিদা মসজিদকে ঘিরে। কাশী রেলওয়ে স্টেশনের পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী কিছু দখলদারকে স্থান খালি করার নোটিস দেয়। এই ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ভারতে (India) মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি ভারত সরকারের কাছে এমন পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দাবি তোলেন। তাঁর বক্তব্য পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

 পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা পাবে টাকা! শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপে আবেদন পদ্ধতি জানুন

তবে জারদারির এই মন্তব্যের জবাব দিতে সময় নেয়নি ভারত। শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি বলেন, ভারত এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে এবং এটিকে ভিত্তিহীন বলে মনে করে। জয়সওয়ালের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে নয়াদিল্লি এই ইস্যুকে শুধু একটি মন্তব্য হিসেবে দেখছে না, বরং ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করছে। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পরিবর্তে অযথা উত্তেজনা বাড়ানোর কাজ করে।

ভারত পাল্টা পাকিস্তানের মানবাধিকার রেকর্ডের দিকেও আঙুল তুলেছে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি পাকিস্তানের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং সামাজিক নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ বহু বছর ধরেই সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে পাকিস্তানের মন্তব্যকে নয়াদিল্লি ‘বিশেষভাবে হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছে। ভারতের দাবি, মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে পাকিস্তানের আগে নিজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা উচিত।

Delhi gave a sharp response to Zardari's remarks on India.

 পোলিও আক্রান্ত পা, বিক্রি করতেন চুড়ি! ছিল না বাবার শেষকৃত্যে যাওয়ার টাকাও, আজ IAS অফিসার রমেশ

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি ভারত (India)-পাক সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েনেরই আরেকটি অধ্যায়। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ইস্যু, জলবণ্টন এবং সংখ্যালঘু অধিকার— একাধিক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ বহুদিনের। ফলে জারদারির মন্তব্য এবং তার জবাবে ভারতের কঠোর অবস্থান সেই পুরনো দ্বন্দ্বকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও উভয় দেশই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থানকে সঠিক বলে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তাপ আরও কিছুটা বাড়বে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারত-পাক সম্পর্কের বরফ গলানোর সম্ভাবনা এখনও অনেকটাই দূরে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker