0%

ভুঁড়ি কিছুতেই কমছে না? দায় কর্টিসল, ইনসুলিন আর ভুল লাইফস্টাইলের — বাড়িতেই কমানোর সহজ উপায় জানুন – সবদিক

মেদ জমে মধ্যপ্রদেশ স্ফীত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনচর্চায় আজ ইমিউনিটি বুস্টার বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, শরীরচর্চা করা মজ্জাগত হয়ে গেছে। এত সব করেও অনেকের দেখা যাচ্ছে ভুঁড়ি কিছুতেই কমছে না। এদিকে, ভুঁড়ির জন্য প্রিয় পোশাক পরতে পাচ্ছেন না। বিসদৃশ লাগছে।

কেন ভুঁড়ি হচ্ছে

চিকিৎসা পরিভাষায় ভুঁড়ি বা belly fat কে বলা হয় কোর ওবিসিটি বা অ্যাবডোমিনাল অ্যাডিপোসিটি। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, হরমোনের নিঃসরণে গন্ডগোল, মানসিক উদ্বেগ, বেশি পরিমাণে কৃত্রিম শর্করা দেওয়া খাবার খাওয়ার প্রবণতার কারণে ভুঁড়ি হয়। বেশি পরিমাণে প্রসেস করা বা কৃত্রিম শর্করা দেওয়া খাবার খেলে, অলস জীবনযাপন করলে, পর্যাপ্ত না ঘুমোলে আর তীব্র মানসিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কারণে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই হরমোন শরীরকে তলপেটে ফ্যাট জমাতে নির্দেশ দেয়। এদিকে, রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে বেশি পরিমাণে ইনসুলিন নিঃসরণ হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোষের ইনসুলিন রেজিজট্যান্স কমে যায়। চর্বি গলাতে পারে না। চর্বি জমে গিয়ে ভুঁড়ি হয়। ফ্যাট জমে টক্সিন বের হয়। শরীর ফুলতে থাকে। স্বাভাবিক বিপাক ক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। ইনসুলিন নিঃসরণ বিঘ্নিত হওয়ায় অতিরিক্ত শর্করা চর্বিতে পরিণত হয় যা জমতে শুরু করে পেটে। চর্বি কম গলে, এনার্জি কমতে থাকে।

বাড়িতে সহজে কীভাবে ভুঁড়ি কমাবেন

স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বেছে নিন ফিটনেসকেই নিজের জীবনের অঙ্গ করে নিন। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না। আবার প্রচুর পরিমাণে খাবার গপগপ করে খেয়ে ফেলবেন না। ব্যালেন্সড ডায়েট বেছে নিন।

– বিজ্ঞাপন –

শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকা জরুরি নিশ্চয়ই কিন্তু অতিরিক্ত শরীরচর্চা করে সুস্থ শরীরকে অযথা ব্যস্ত করে তুলবেন না। অতিরিক্ত শারীরিক কসরত করলে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

স্বাভাবিক ভাবে খাবার খান, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না

শরীরে বিশেষ করে পেটে মেদ জমলে অনেকেরই ধারণা না খেয়ে থাকলে মেদ ঝরবে। এটা একেবারে ভুল ধারণা। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে পেটে গ্যাস জমবে। নানান রকম শারীরিক সমস্যা হবে৷ তাই একসঙ্গে অনেক খাবার বেশি পরিমাণে না খেয়ে বারেবারে অল্প পরিমাণে খাবার খান। এতে খাইখাই ভাব কমবে।

হাঁটাচলা, বাড়িতে কাজকর্ম করেও অনেক বেশি ভালো ভাবে গা ঘামানো সম্ভব। তাই প্রতিদিন কী কী কাজ করবেন তার একটা রুটিন ঠিক করে ফেলুন আগে থাকতেই। লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেই কাজে নেমে পড়ুন।

সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল খান, শরীর আর্দ্র রাখুন

শরীরকে চনমনে রাখতে আর্দ্র রাখা জরুরি। তাই সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল খান। এতে ত্বকও ভালো থাকবে। ক্যালরি বার্ন করা বা মেদ ঝরানোর জন্য এক্সারসাইজ মেটাবলিজম রেটও স্বাভাবিক থাকবে।

অ্যাডেড সুগার বা অতিরিক্ত চিনি খাওয়া কমান

চিনি খাওয়া কমাতে বললেই অনেকে চিনি খাওয়া কমিয়ে দিয়ে কৃত্রিম বা আর্টিফিশিয়াল চিনির দিকে হাত বাড়ান। এটা করবেন না। ফল বা দুধে যে শর্করা থাকে তার কথা বলা হচ্ছে না। খাবার থেকে চিনির পরিমাণ কমান। মিষ্টি জাতীয় খাবার, কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, ক্যান্ডি, কেক, কার্বোনেটেড ড্রিঙ্ক, সোডাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাডেড সুগার থাকে। তাই এগুলো খাওয়া কমান

ফল, শাক সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ক্যালরিও কম থাকে। তাই সারাদিনে ফল, শাকসবজি খান। মহিলাদের সারাদিনে ২৫ গ্রাম আর পুরুষদের ৩৮ গ্রাম ফাইবার লাগে।

প্রোটিন হয়স সরাসরি ভুঁড়ি কমায় না কিন্তু পরোক্ষে সাহায্য করে। প্রোটিন সাধারণত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে খাইখাই ভাব কমবে। মেদও কম জমবে। শাকসবজি থেকে প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবারও মিলবে যা শরীরের জন্য একান্ত জরুরি।

বেড়াল ডিঙতে পারবে না এমন এক থালা ভাত, আস্ত খাসি, এক জামবাটি তরকারি এসব শুনতে ভালো লাগলেও শরীরের জন্য একেবারে বিষ। তাই খান মেপেজুপে। পোরশনের ওপর নজর দিন। এতে অতিরিক্ত খেয়ে বাড়তি ক্যালরি শরীরে জমবে না। ভুঁড়ি হবে না। তাই কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন সেদিকে খেয়াল রাখা বিশেষ জরুরি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker