0%

ভোট পরবর্তী হিংসার বলি আরও এক, তৃণমূল কর্মীর ছেলেকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতে না হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছিল রাজনৈতিক অশান্তির খবর। হিংসা রুখতে স্বয়ং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও রক্তপাত থামছে না বাংলায়। এবার ভোট পরবর্তী হিংসার বলি হলেন নদিয়ার কল্যাণীর গয়েশপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবক। নাম পাপাই সরকার। চার দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে এক অসম লড়াই লড়ার পর অবশেষে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গয়েশপুর জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হুমকির জেরে বাড়িছাড়া, ফিরতেই ঘটল বিপর্যয়

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গয়েশপুরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সন্দীপ সরকারের একমাত্র পুত্র ছিলেন পাপাই সরকার। সন্দীপবাবু এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। পরিবারের দাবি, নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই বিজেপি ঘনিষ্ঠ কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের পরিবারকে লাগাতার হুমকি দিচ্ছিল। ছেলের সুরক্ষার কথা ভেবে পাপাইকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছিল পরিবার। গত ২০ মে পরিস্থিতি একটু শান্ত ভেবে গয়েশপুরের বাড়িতে ফিরে আসেন পাপাই। কিন্তু বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।

পরবর্তীতে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশে পাপাইয়ের রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রথমে তাঁকে কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার নীলরতন সরকার (NRS) হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু চিকিৎসা পরিষেবা আশানুরূপ না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে পুনরায় কল্যাণীর এইমস (AIIMS)-এ নিয়ে আসার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই যুবক।

রাজনৈতিক তরজা ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

পাপাইয়ের বাবা সন্দীপ সরকার কল্যাণী থানায় একটি লিখিত খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “বিজেপির দুষ্কৃতীরাই আমার ছেলেকে টার্গেট করে পিটিয়ে মেরেছে। এটা কোনও সাধারণ পথ দুর্ঘটনা নয়, এটা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।” ছেলের শোকে কাতর মা ও পরিজনরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে পদ্ম শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, এই মৃত্যুর পেছনে কোনও রাজনীতি নেই, এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা চাই প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে এটি খুন নাকি দুর্ঘটনা। যদি কেউ সত্যিই পাপাইকে খুন করে থাকে, তবে পুলিশ তাকে কঠোর শাস্তি দিক।” আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় কল্যাণী থানার পুলিশ, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker