মহম্মদ আলি থেকে পেলে-জিকো, ছোটবেলার ভালোবাসাই বদলে দিল অভিষেকের জীবন!

বলিউডে ‘বচ্চন’ পদবিই যেখানে কয়েক প্রজন্ম ধরে সাফল্য, খ্যাতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক, সেখানে সেই পরিচয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের আরও একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন অভিষেক বচ্চন (Abhishek Bachchan)। অভিনয়ের পাশাপাশি গত এক দশকে ক্রীড়া-উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। ইউরোপীয় টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬-এর আবহে সেই ক্রীড়া-যাত্রা, তাঁর ভাবনা এবং খেলাধুলার প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা নিয়ে এবার মুখ খুললেন অভিনেতা।
‘ফিউচার আনপ্লাগড’ পডকাস্টে সঞ্জীব কৃষ্ণের সঙ্গে আলাপচারিতায় অভিষেক জানান, তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী কাজ আসলে সিনেমার পর্দার বাইরে। পেশাদার ক্রীড়া দলের মালিকানা যে সহজ কোনও পথ নয়, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। তবু এই কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায় পা রাখার পিছনে তাঁর মূল উদ্দেশ্য কখনওই ছিল দ্রুত মুনাফা অর্জন করা নয়। বরং খেলাধুলার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগই তাঁকে এই পথে নিয়ে এসেছে।
অভিষেকের কথায়, খেলাধুলার প্রতি এই ভালোবাসার বীজ বপন হয়েছিল তাঁর শৈশবেই। আর সেই আগ্রহ তৈরি হওয়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা তাঁর বাবা, অমিতাভ বচ্চনের। অভিনেতার কথায়, তাঁর বাবাও খেলাধুলার প্রবল অনুরাগী ছিলেন। ছোটবেলায় বাবার পড়ার ঘরে বসে বক্সিং কিংবদন্তি মহম্মদ আলির লড়াইয়ের ভিএইচএস টেপ দেখতেন তিনি। একইসঙ্গে পেলে, জিকোর মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের খেলা এবং তাঁদের কেরিয়ার সম্পর্কেও আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর।
শৈশবের সেই আবেগই পরবর্তীতে বাস্তব রূপ নেয় পেশাদার ক্রীড়ায়। প্রো কাবাডি লিগে ‘জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্স’-এর মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রীড়া জগতে সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করেন অভিষেক। তাঁর কাছে এটি নিছক কোনও করপোরেট বিনিয়োগ ছিল না। দলের সঙ্গে আবেগের জায়গা থেকেই নিজেকে জড়িয়েছিলেন তিনি। দলের সাফল্য, ব্যর্থতা থেকে শুরু করে মাঠের পারফরম্যান্স সবকিছুই কাছ থেকে অনুসরণ করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘বলিউডের চেয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েশনে বেশি টাকা’, রণবীর আল্লাহবাদিয়ার দাবিতে তুঙ্গে চর্চা
অভিষেক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কখনও তাঁর ক্রীড়া উদ্যোগকে শুধুমাত্র ব্যবসার চোখে দেখেননি। আর ঠিক এখানেই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় হিসাবরক্ষকদের সঙ্গে মেলেনি। অভিনেতার মতে, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেখানে তাঁর ক্ষেত্রে আবেগও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিনয় জগতে বচ্চন পরিবারের বিশাল উত্তরাধিকার তাঁর সঙ্গে থাকলেও, সেই পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে থেমে থাকতে চাননি অভিষেক। বরং নিজের পছন্দের জায়গায় নিজের মতো করে একটি দীর্ঘস্থায়ী পরিচয় তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য। ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর এক দশকের পথচলা তাই শুধুই ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং ছোটবেলার ভালোবাসাকে নিজের জীবনের আরেকটি বড় অধ্যায়ে পরিণত করার গল্প। ইউরোপীয় টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬-এর প্রাক্কালে অভিষেকের সেই ক্রীড়া-পরিচয়ই ফের সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: সলমনের আঁকা ছবি থেকে পদ্মশ্রী, সানিয়ার দুবাইয়ের বাড়ি যেন স্বপ্নের রাজপ্রাসাদ!



