0%

মৃত্যুমিছিলের মধ্যেই প্রাণের স্পন্দন! ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার জীবিত শিশু

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) চারদিকে এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ, কান্না আর স্বজনহারা মানুষের হাহাকার। উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই এক হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাঝেও মিলল এক অলৌকিক সুখবর। ধসে পড়া একটি বহুতলের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে। দীর্ঘ ছয় দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা।

ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার জীবিত শিশু

গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে উভয় ভূমিকম্পের মাত্রাই ছিল ৭-এর বেশি। এরপর অন্তত ২০টি আফটারশক অনুভূত হয়, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যারিবিয়ান উপকূলের বন্দর শহর লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাসের উত্তরাংশ। বহু বহুতল ভেঙে পড়েছে, রাস্তা ফেটে গিয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে উদ্ধারকারী দল কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একটি ১৮ মাস বয়সি শিশুও ছিল, যা উদ্ধারকাজে নিযুক্ত কর্মীদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করায় ফের হুমকি পাকিস্তানের! এবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি বিলাওয়াল ভুট্টোর

এরই মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে আরও একটি বড় সাফল্য আসে। লা গুয়াইরার লস কোরালেস গার্ডেন–১ আবাসনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বছর বয়সি ক্লিবার মোরানকে। ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ় জানান, শিশুটি টানা ছয় দিন ধ্বংসস্তূপের নিচেই আটকে ছিল। জর্ডান থেকে আসা বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রড্রিগেজ় জানান, শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনার মুহূর্তে উদ্ধারকারীরা আবেগে বলে ওঠেন, “প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে।” সেই দৃশ্য ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে।

শিশুটির অলৌকিক উদ্ধার নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলকে। তাঁদের বিশ্বাস, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আরও কয়েকজন জীবিত থাকতে পারেন। তাই দিন-রাত এক করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী, স্নিফার ডগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজ চলছে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রড্রিগেজ় বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার আশা কখনও ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভাবনা রয়েছে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান চলবে।” প্রশাসনের এই বক্তব্যে বিপর্যস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও কিছুটা আশা ফিরে এসেছে।

আরও পড়ুন: বাবা দিনমজুর, গয়না বিক্রি করে পড়িয়েছেন মা! মাটির ঘরে থেকে অভাবকে জয় করেই IAS অফিসার হলেন পবন

অন্যদিকে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি জোরকদমে চলছে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ। বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই ভেনেজ়ুয়েলার (Venezuela) পাশে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইউনিসেফের একটি জাহাজ ৪৭ মেট্রিক টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ভেনেজ়ুয়েলায় পৌঁছেছে। সেখানে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্বাস্থ্যসামগ্রী, শিশুদের জন্য খাদ্য এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলির কাছে দ্রুত এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। একদিকে যখন গোটা দেশ শোক ও ধ্বংসের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একটি শিশুর জীবিত ফিরে আসা যেন প্রমাণ করে দিল—সবচেয়ে অন্ধকার সময়েও আশার আলো কখনও পুরোপুরি নিভে যায় না।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker