সরকারি কর্মীদের আবাসে বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার, সরকারি অফিসে বসবে সোলার প্যানেল

রাজ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। রাজ্য সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন, আন্ডারটেকিং এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে ডোমেস্টিক স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যাঁদের বেতন, পারিশ্রমিক বা সাম্মানিক সরাসরি রাজ্যের রাজকোষ থেকে প্রদান করা হয়, তাঁরা সকলেই এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সমস্ত বিভাগীয় প্রধান, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও আইজিপি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, ডিভিশনাল কমিশনার এবং জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (WBSEDCL)-এর মোট ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১০৩টি কেন্দ্রকে এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ বণ্টনে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় সেখান থেকেই প্রকল্পের সূচনা করা হচ্ছে। সরকারের মতে, এই ক্ষতির ফলে রাজ্যের রাজকোষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ধাপে ধাপে বাকি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারগুলির আওতাধীন এলাকাগুলিতেও স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সরকার জানিয়েছে, নতুন স্মার্ট মিটারগুলি প্রাথমিকভাবে পোস্ট-পেড পদ্ধতিতেই চালু থাকবে। অর্থাৎ বর্তমান বিলিং ব্যবস্থা ও বিল পরিশোধের নিয়মে কোনও পরিবর্তন হবে না। তবে মিটার স্থাপনের পর কোনও গ্রাহক চাইলে স্বেচ্ছায় প্রি-পেড ব্যবস্থাও বেছে নিতে পারবেন।
অন্যদিকে, পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়াতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে রুফটপ সোলার প্যানেল বসানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নবান্নের মতে, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করবে, তেমনই সরকারি দপ্তরগুলির বিদ্যুৎ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করবে।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতার একটি রুফটপ সোলার প্রকল্প স্থাপনের জন্য প্রায় ৩০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। সেই কারণে সরকারি অফিসগুলির ছাদ ও খোলা জায়গা ব্যবহার করে পাঁচ থেকে ১৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ অপচয় রোধ, আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এই যুগ্ম উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।



