৫ কোটির ফেরারি, তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে ছবি! গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল আসলে কে?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতাকে ঘিরে বিতর্কের পারদ চড়েছে। সেই আবহেই ফের শিরোনামে উঠে এল কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবালের (Shams Iqbal) নাম। গার্ডেন রিচের এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক সময় দ্রুত উত্থান, প্রভাবশালী রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য আলোচনায় থাকা এই নেতাকে ঘিরে এবার শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
কে এই শামস ইকবাল (Shams Iqbal) ?
আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন এবং দ্রুত রাজনৈতিক উত্থানের জন্য বহুদিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন শামস ইকবাল। কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন। এবার সেই নেতার বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন গার্ডেনরিচের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মহম্মদ শাদাব।
শামস ইকবালের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর পারিবারিক ইতিহাসও কম আলোচিত নয়। তিনি গার্ডেন রিচে পুলিশ অফিসার তাপস চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মহম্মদ ইকবাল ওরফে মুন্না ইকবালের ছেলে। এলাকায় একসময় অত্যন্ত প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মুন্না। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখেই রাজনীতিতে নিজের পথচলা শুরু করেন শামস।
২০২১ সালের কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে তিনি কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, তাঁদের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতেই বাধা দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় মহলের দাবি, গার্ডেন রিচ ও মেটিয়াবুরুজ এলাকায় তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই শামস ইকবালের ব্যক্তিগত জীবনের এক অন্য ছবি ধরা পড়ে। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশ সফরের একাধিক মুহূর্ত তিনি নিজেই প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রোফাইলে বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে তোলা ছবিও রয়েছে। দামী গাড়ির প্রতি তাঁর ঝোঁকের কথাও বহুবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। কয়েক বছর আগে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফেরারি নিয়ে কলকাতা পুরসভায় পৌঁছে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, তাঁর গ্যারেজে দেশ-বিদেশের একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক মহলের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই শামস ইকবালকে ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত করে এসেছে। কলকাতা বন্দরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাংগঠনিক কাজেও তাঁর প্রভাব ছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি। ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ গার্ডেন রিচে বহুতল ধসের ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হলে তাঁর নামও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফিরহাদ হাকিম তখন বলেছিলেন,”কাউন্সিলরের পক্ষে সব গলির সব বিল্ডিংয়ের খোঁজ রাখা সম্ভব নয়।”

আরও পড়ুন : ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে হয়েও একসময় পরতেন বোরখা! কারণ জানিয়েছিলেন রচনা নিজেই
উল্লেখ্য, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর পর শামস ইকবালকে বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের বৈঠকগুলিতে নিয়মিত দেখা যেতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে দেখা যায় তাঁকে। এরপরেই গার্ডেনরিচের এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।




