0%

ট্যাটু তুলতে চান? লেজারের ভয়ে দূরে রয়েছেন? ঘরোয়া টোটকাতেই মুক্তি?

কেউ ট্রেন্ডের গা ভাসিয়ে আবার কেউ আবেগে করেন ট্যাটু। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, অনেকের কাছেই পরবর্তীতে বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে ট্যাটু। চাকরি, বিয়ে বা ব্যক্তিগত পছন্দ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ট্যাটু তোলার ইচ্ছাও বাড়ে অনেকের। কিন্তু লেজার ট্রিটমেন্ট খরচসাপেক্ষ হওয়ায় অনেকেই খুঁজছেন ঘরোয়া ভাবে ট্যাটু তোলার উপায়।
তবে ঘরোয়া উপায় ট্য়াটু তোলা কি আদৌ নিরাপদ? কী বলছে চিকিৎসক ও গবেষণা ?

ট্যাটু কীভাবে ত্বকে বসে?

ট্যাটু করার সময় কালি (Ink) ত্বকের উপরের স্তর (Epidermis) ভেদ করে নিচের স্তর (Dermis)-এ ঢোকানো হয়। এই স্তর সহজে বদলায় না বলেই ট্যাটু দীর্ঘদিন থাকে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে,ঘরোয়া উপায়ে ট্যাটু পুরোপুরি তোলা খুবই কঠিন।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজির তরফে জানা যায়, ঘরোয়া পদ্ধতিতে ট্যাটু তুলতে গিয়ে ত্বকের ক্ষতি, সংক্রমণ ও দাগ পড়ার ঝুঁকি থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্যাটু তোলার কিছু ঘরোয়া টিপস ভাইরাল হলেও, এগুলির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে এখনও দ্বন্দে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী কী ঘরোয়া উপায় তোলা যেতে পারে ট্যাটু ? ইন্টারনেটে পাওয়া যায় বেশ কিছু টিপস। তবে সেগুলো কী আদতেও মেনে চলবেন?

লেবু ও নুন- লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড ও নুনের ঘর্ষণে ত্বকের উপরের স্তর কিছুটা উঠে যেতে পারে। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে ত্বক পুড়ে যাওয়া, জ্বালা ও ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি।
অ্যালোভেরা জেল- অ্যালোভেরা ত্বকের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে, কিন্তু ট্যাটুর কালি তুলতে পারে—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড- কিছু ক্ষেত্রে ট্য়াটু হালকা হতে পারে, কিন্তু FDA (Food and Drug Administration) সতর্ক করেছে নিজে নিজে ব্যবহার করলে ত্বকের ভয়ানক ক্ষতি হতে পারে।
স্ক্রাব বা স্যান্ডপেপার- অনেকে স্ক্রাব বা স্যান্ডপেপার দিয়ে তুলতে চান ট্যাটু। গবেষণা বলছে এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক পদ্ধতি। এতে ত্বকে স্থায়ী দাগ পড়তে পারে, রক্তপাত ও ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকি থাকে।

ভারতের একাধিক ডার্মাটোলজিস্টের মতে, ঘরোয়া উপায়ে ট্যাটু তুলতে গেলে কালি পুরোপুরি যায় না, বরং ত্বকের ক্ষতি স্থায়ী হয়।
ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘরোয়া পদ্ধতিতে ট্যাটু তোলার ফলে স্কিন ইনফেকশন, অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন ও স্কারিং-এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তাহলে নিরাপদ উপায় কী?

বোর্ড সার্টিফায়েড ডার্মাটোলজিস্ট ড: শ্যানন ট্রটার (Dr. Shannon Trotter) একটি পডকাস্টে বলেছেন “হোম রেমেডি বা ঘরোয়া পদ্ধতি কার্যকর নয়, লেজার সবচেয়ে কার্যকর, কিন্তু একাধিক সেশন লাগতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত ও নিরাপদ পদ্ধতি হল লেজার ট্যাটু রিমুভাল।
ত্বকের ধরন ও কালি অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে বলে পরামর্শ দেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা।
প্যাচ টেস্ট করাও জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘরোয়া উপায়ে ট্যাটু পুরোপুরি তোলা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। সাময়িকভাবে হালকা হতে পারে, কিন্তু তার বিনিময়ে ত্বকের ক্ষতি মারাত্মক হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সরান আপনার ট্যাটু।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker