0%

হবে সরকারি প্রকল্প থেকে ব্যাঙ্কের যাবতীয় কাজ, বাংলায় বসছে ৭০ দিনের বিশেষ ক্যাম্প | West Bengal 70 days special financial inclusion camp offers banking, insurance, pension and agricultural services

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুজোর মরশুম শেষ হতে না হতেই সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্কিং (Banking) পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে শুরু হয়েছে ৭০ দিনের বিশেষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অভিযান (70 days special financial inclusion camp)। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে বিমা ও পেনশন প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা, পুরনো অ্যাকাউন্টের KYC আপডেট এবং কৃষকদের বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রের অর্থ মন্ত্রকের অধীন Department of Financial Services-এর উদ্যোগে দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চলছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। দেশের প্রায় ২.৭০ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েত ও শহরাঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে ।পশ্চিমবঙ্গেও বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, রাজ্য স্তরের ব্যাঙ্কার্স কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার সমন্বয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হল, যাঁরা এখনও ব্যাঙ্কিং ও সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার সম্পূর্ণ সুবিধা পাননি, তাঁদের কাছে সেই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।

৭০ দিনের বিশেষ ক্যাম্পে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

এই কর্মসূচিতে একাধিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ও সরকারি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলি হল–

১. প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ

যাঁদের এখনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা বা PMJDY-এর অধীনে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

২. প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনায় নাম নথিভুক্তি

PMJJBY-এর মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা জীবন বিমার আওতায় আসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে প্রকল্পটির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, বছরে ৪৩৬ টাকা প্রিমিয়ামে ২ লক্ষ টাকার জীবন বিমার সুবিধা রয়েছে।

৩. প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনায় আবেদন

দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা নির্দিষ্ট ধরনের অক্ষমতার ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য রয়েছে PMSBY। এই প্রকল্পে বছরে ২০ টাকা প্রিমিয়ামে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা সম্পূর্ণ স্থায়ী অক্ষমতায় ২ লক্ষ টাকা এবং আংশিক স্থায়ী অক্ষমতায় ১ লক্ষ টাকা বিমা কভার পাওয়া যায়।

৪. অটল পেনশন যোজনায় নাম লেখানোর সুযোগ

অবসরের পর নিয়মিত পেনশনের ব্যবস্থা করতে অটল পেনশন যোজনায় যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৫. পুরনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের Re-KYC

অনেক গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে KYC সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করা বাকি থাকে। এই ক্যাম্পে পুরনো জনধন অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য সেভিংস অ্যাকাউন্টের Re-KYC করার সুযোগ রয়েছে।

৬. আধারের তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা ও প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী আধার সংযুক্ত করার কাজ করা যাবে।

৭. C-KYC সংক্রান্ত কাজ

যাঁদের Central KYC বা C-KYC পরিচিতি নম্বর তৈরি করা বাকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকবে।

৮. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নমিনির তথ্য আপডেট

অনেক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে নমিনির তথ্য পুরনো অথবা অসম্পূর্ণ থাকে। এই কর্মসূচিতে সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লকারের নমিনির তথ্য আপডেট করার সুযোগ রয়েছে।

৯. কিষান ক্রেডিট কার্ডের আবেদন

কৃষকদের জন্য কিষাণ ক্রেডিট কার্ড বা KCC-এর আবেদন সংগ্রহ করা হবে।

১০. প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় নাম নথিভুক্তি

কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা বা PMFBY-তে নাম নথিভুক্ত করার বিষয়ে সাহায্য পেতে পারেন।

১১. ডিজিটাল প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা

অনলাইন ব্যাঙ্কিং, UPI ও ডিজিটাল লেনদেনের সময় কীভাবে প্রতারণা এড়ানো যায়, সে সম্পর্কে সচেতনতা কর্মসূচি থাকবে। ভুয়ো ফোন, OTP চাওয়া, সন্দেহজনক লিঙ্ক এবং আর্থিক প্রতারণার মতো বিষয় সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা হবে।

১২. দাবিহীন আর্থিক সম্পদ সম্পর্কে তথ্য

‘আপকি পুঁজি, আপকা অধিকার’ উদ্যোগের মাধ্যমে দাবিহীন আর্থিক সম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে। পুরনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা অর্থ বা অন্যান্য দাবিহীন আর্থিক সম্পদের বিষয়ে কীভাবে খোঁজ নিতে হয়, সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

কারা কারা এই বিশেষ ক্যাম্পে যাবেন?

এই কর্মসূচি মূলত ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আরও বেশি যোগ্য মানুষকে আনার জন্য। বিশেষ করে নিচের ব্যক্তিরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ করতে পারেন–

  • যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই: তাঁরা জনধন যোজনায় অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবেদন করতে পারেন।
  • যাঁদের KYC আপডেট করা বাকি: পুরনো জনধন বা সেভিংস অ্যাকাউন্টের তথ্য সংশোধন করতে পারেন।
  • যাঁরা বিমার আওতায় আসতে চান: যোগ্য হলে PMJJBY ও PMSBY-তে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ নিতে পারেন।
  • যাঁরা পেনশন চান: বয়স ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে অটল পেনশন যোজনার বিষয়ে খোঁজ নিতে পারেন।
  • যোগ্য প্রধানমন্ত্রী-কিষাণ উপভোক্তারা: কিষান ক্রেডিট কার্ডের আবেদন সম্পর্কে জানতে পারেন।
  • যে কৃষকরা ফসল বিমা করতে চান: তাঁদের জন্য PMFBY-এর আবেদন ও যোগ্যতার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • যাঁদের অ্যাকাউন্টে নমিনির তথ্য নেই বা পুরনো: তাঁরা নমিনির তথ্য আপডেট করার ব্যবস্থা নিতে পারেন।
  • যাঁদের C-KYC বা আধার সংযুক্তির কাজ বাকি: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সেই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
  • প্রত্যন্ত এলাকার ব্যাঙ্কিং পরিষেবাবঞ্চিত মানুষ: স্থানীয় শিবিরে কোন কোন পরিষেবা পাওয়া যাবে, তা জেনে নিতে পারেন।
  • বিশেষভাবে দুর্বল আদিবাসী গোষ্ঠীর পরিবার: তাঁদের ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতায় আনার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কোথায় এই ক্যাম্প হবে?

এই কর্মসূচি দেশের গ্রাম পঞ্চায়েত ও শহরাঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকাগুলিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে চলছে। পশ্চিমবঙ্গেও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাঙ্ক ও প্রশাসনিক সংস্থার সমন্বয়ে পরিষেবা দেওয়া হবে। ক্যাম্পের নির্দিষ্ট দিন, সময় ও স্থান জানতে–

  • নিজের ব্যাঙ্কের শাখায় যোগাযোগ করুন।
  • স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভার অফিসে খোঁজ নিন।
  • সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
  • স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কিং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শিবিরের সময়সূচি নিশ্চিত করুন।

সব এলাকায় একই দিনে ক্যাম্প হবে, এমন নয়। তাই যাওয়ার আগে স্থানীয় সময়সূচি জেনে নেওয়া ভালো।

ক্যাম্পে যাওয়ার সময় কী কী নথি সঙ্গে রাখবেন?

কোন পরিষেবার জন্য যাচ্ছেন, তার উপর প্রয়োজনীয় নথি নির্ভর করবে। সাধারণভাবে সঙ্গে রাখা যেতে পারে–

  • আধার কার্ড বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র।
  • ঠিকানার প্রমাণ, যদি প্রয়োজন হয়।
  • PAN কার্ড, যেখানে প্রযোজ্য।
  • পুরনো ব্যাঙ্কের পাসবই বা অ্যাকাউন্টের তথ্য।
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর।
  • KYC আপডেটের জন্য ব্যাঙ্কের চাওয়া নথি।
  • নমিনির তথ্য ও প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র।
  • নতুন অ্যাকাউন্ট বা বিমা-পেনশনের আবেদনপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।
  • কৃষি-সংক্রান্ত আবেদন হলে সংশ্লিষ্ট জমি, ফসল বা কৃষক-পরিচয়ের নথি, যেখানে প্রযোজ্য।

দীপাবলীর আগেই সুখবর, হাজার হাজার কর্মীর বেতন ও DA বাড়াল সরকার

এই কর্মসূচিতে আবেদন বা পরিষেবা নেওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা দরকার–

  • কোনও ব্যক্তি বা এজেন্টকে অযথা টাকা দেবেন না। সরকারি প্রকল্পের নির্ধারিত প্রিমিয়াম ও ব্যাঙ্কের বৈধ চার্জ আলাদা বিষয়।
  • কাউকে OTP, ATM PIN বা UPI PIN জানাবেন না।
  • বিমা বা পেনশন প্রকল্পে নাম লেখানোর আগে বয়স, প্রিমিয়াম, কভার ও অন্যান্য শর্ত বুঝে নিন।
  • KCC বা অন্য ঋণের আবেদন করলেই ঋণ মিলবে, তার নিশ্চয়তা নেই।
  • কোনও ক্যাম্পে যাওয়ার আগে স্থানীয় ব্যাঙ্ক বা প্রশাসনের কাছ থেকে তার সত্যতা ও সময়সূচি যাচাই করুন।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker