এবার বাংলাদেশেও উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা! পদ্মাপাড়ের এই জেলায় উপচে পড়ছে পর্যটকের ভিড়

হিমালয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। এর তুষারশুভ্র সৌন্দর্য উপভোগ করতে বছরভর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন দার্জিলিংয়ে। ৮,৫০০ ফুট উচ্চতার টাইগার হিল পর্বতশৃঙ্গ থেকে কাঞ্জনজঙ্গার সূর্যোদয় উপভোগ করেননি, এমন বাঙালি পাওয়া কঠিন। আকাশ পরিষ্কার থাকলে শিলিগুড়ি থেকেও পাহাড়ের অপার্থিব সৌন্দর্য দেখা যায়। তাই বলে বাংলাদেশ থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘার শোভা উপভোগ? হ্যাঁ, ‘স্লিপিং বুদ্ধা’ চাক্ষুষ করতে বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের জেলা পঞ্চগড়ে ছুটছেন পদ্মাপাড়ের অসংখ্য মানুষ। সত্যি কি দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গের?
আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশের পঞ্চগড় থেকে বাস্তবেই দেখা মেলে হিমালয়ের অপরূপ শৃঙ্গের। বিশেষ করে তেঁতুলিয়ার কয়েকটি স্থান থেকে সূর্যের আলোয় ঝলমল করা কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, পঞ্চগড়ে গেলেই যে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাবে, তা নয়। আবহাওয়া, আকাশের স্বচ্ছতা ও দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে পর্বতশৃঙ্গ দেখা যাবে কি না। সাধারণত অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার ভালো সুযোগ থাকে। বিশেষ করে ভোরের দিকে আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে দেখা মিলতে পারে তুষারাবৃত অপরূপ দৃশ্যের। তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার খোঁজখবরও নেওয়াও জরুরি।
এই সব তথ্য জেনেই অক্টোবর পড়তেই পঞ্চগড় আসছেন অসংখ্য পর্যটক। গত কয়েক বছরে পর্যটনস্থল হিসাবে ক্রমশ জনপ্রিয়তা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে ঘেঁষা এই জেলার। বিষয়টি আন্দাজ করেই তারেক রহমানের দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পঞ্চগড় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে প্রথমে পৌঁছাতে হবে পঞ্চগড় জেলা শহরে। ঢাকা থেকে সরাসরি পঞ্চগড়গামী বাস পাওয়া যায়। নাবিল, হানিফ, শ্যামলী ও এসআর-সহ বিভিন্ন পরিবহনে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। বাসের ধরন ও সময় অনুযায়ী ভাড়া আনুমানিক ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
পঞ্চগড় শহরে পৌঁছে লোকাল বাস বা অন্য স্থানীয় যানবাহনে যেতে হবে তেঁতুলিয়া। লোকাল বাসে জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৭০ টাকা। তেঁতুলিয়ায় পৌঁছে সারাদিনের জন্য অটো বা অন্য স্থানীয় যানবাহন ভাড়া করে আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন। অটো ভাড়া আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
থাকার জন্য অনেক হোটেল আছে তেঁতুলিয়ায়। সেখানে হোটেলের নন-এসি রুম ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা, এসিরুমের ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সেখানের নির্বাহী আধিকারিকের কাছে অনুমতি নিয়ে থাকায় যায় মহানন্দা নদীর তীরের ডাকবাংলোতে। ডাকবাংলোতে রুমপ্রতি ভাড়া ৪০০ টাকা। এছাড়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জেলা পরিষদের ডাকবাংলো এবং বন বিভাগের রেস্টহাউসেও অনুমতি নিয়ে থাকা যায়। যেহেতু এখন সেখানে অনেকেই বেড়াতে যান, তাই আগে থেকে হোটেল বুক করে যাওয়াই ভালো।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো পর্যটকদের কাছে পরিচিত একটি স্থান। ভোরে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকেই দূরের পর্বতশৃঙ্গ দেখার সুযোগ মেলে। ডাকবাংলোর আশপাশের খোলা জায়গা থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
শেয়ার
লিংক



