ক্রিকেট থেকে মুখ ফেরাচ্ছে আমজনতা! ব্যাট-বলের লড়াই বাঁচিয়ে রাখতে কী দাওয়াই জয় শাহদের?

বিশ্বজুড়ে এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আধিক্য। যার ফলে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে অতীতের সেই উন্মাদনা এখন আর নেই। প্রায় একই পরিস্থিতি ওয়ানডে ক্রিকেটেরও। টেস্ট ক্রিকেটে কয়েকটা ভেন্যু বাদ দিয়ে বেশিরভাগ স্টেডিয়াম ভরছে না। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ চলছে। যা ক্রিকেটায় উৎকর্ষতার বিচারে যথেষ্ট আকর্ষণীয়। সেখানেও একই অবস্থা। স্টেডিয়ামের অর্ধেকের বেশি প্রায় খালি।
ডারবানে প্রথম টেস্টের কথা ধরা যাক। স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা পঁচিশ হাজার। হিসাব বলছে, প্রথম তিনদিনে সম্মিলিতভাবে পনেরো হাজার দর্শকও হয়নি। অথচ ডারবানে ওই সপ্তাহে অলান্ডো পাইরেটস আর মামেলোসি সানডাউন্সের ফুটবল ফাইনাল দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন পঞ্চাশ হাজার দর্শক। অবশ্য শুধু ডারবান বলে নয়, বিশ্বের সর্বত্র এখন একই পরিস্থিতি। টেস্ট নিয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন সমর্থকরা। যা নিয়ে আইসিসি যথেষ্ট চিন্তিত। শোনা যাচ্ছে, নভেম্বরের আইসিসির ওই বৈঠকে স্ট্রাটেজি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হবে। টেস্ট ক্রিকেটকে কীভাবে আগের মতো আকর্ষণীয় করা যায়, সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভাবনা-চিন্তা শুরু করে দিয়েছে আইসিসি।
২০৩১ পর্যন্ত আইসিসি-র এফটিপি ঠিক হয়ে গিয়েছে। সেখানে কোনও বদল সম্ভব নয়। তারপর কোন পথে এগোনো হবে, তার নির্দিষ্ট একটা পরিকল্পনা করা হবে। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ফেরাতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করেছিল আইসিসি। যাতে টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ে। যা খবর, তাতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ হয়তো থাকবে। তবে তাতে বেশ কিছু বদল আসতে পারে। মাঝে ‘টু টায়ার’ টেস্ট সিস্টেমের প্রসঙ্গ উঠেছিল। সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। বরং মূল কাঠামো এক রেখে কীভাবে টেস্টকে আকর্ষণীয় করা যায়, সেটাই আইসিসির প্রধান লক্ষ্য। এটাও শোনা গেল, ফরম্যাটে হয়তো বেশ কিছু বদল হতে পারে। একটা সময় টেস্ট ক্রিকেটের আগ্রহ ফেরাতে দিন-রাতের মাচ শুরু করা হয়েছিল। প্রায় প্রত্যেক সিরিজে একটা করে দিন-রাতের মাচ রাখা হত। সাম্প্রতিক সময়ে সেটাও আর হচ্ছে না। কোন সিরিজে দিন-রাতের ম্যাচ থাকবে, সেটা সম্পূর্ণ টিমগুলোর উপর নির্ভর করে। এখানে আইসিসি-র কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। এখন কোনও দেশই এখন আর দিন-রাতের টেস্ট খেলতে চাইছে না।
খবর নিয়ে যা জানা যাচ্ছে, তাতে টেস্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে সব দেশকেই এখন ক্ষতির সামনে পড়তে হচ্ছে। একইভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে আইসিসিও। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়মক সংস্থার এখন প্রধান লক্ষ্য হল টেস্ট ক্রিকেটের অতীতের গৌরব ফিরিয়ে নিয়ে আসা। জনপ্রিয়তা আবার আগের পর্যায়ে নিয়ে আসা। সেটা কোন পথে সম্ভব, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হবে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের আইসিসির বৈঠক টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
একইরকম আলোচনার অন্যতম বিষয় থাকবে ওয়ানডের ভবিষ্যৎ। টি-টোয়েন্টির প্রবল দাপটের মাঝেও আইসিসি-র কাছে সবচেয়ে লাভজনক ইভেন্ট পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ। যার জন্য সামনের বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে বেশ কিছু নতুন ভাবনা রয়েছে আইসিসির। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া এবং জিম্বাবোয়েতে হতে চলা বিশ্বকাপের ফরম্যাটে যেমন বেশ কিন্তু বদল হয়েছে। বিশ্বকাপে এর আগে কোনও সুপার সিরিজ ছিল না। এবার যেটা প্রথা হয়েছে। তিন দলকে নিয়ে একটা সুপার সিরিজ চলবে। তাছাড়া দু’দশকের বেশি সময় পর আবার আফ্রিকার মাটিতে ওয়ান ডে বিশ্বকাপের আসর বসতে চলেছে। আইসিসি কয়েকটা নতুন ইভেন্টের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। যা মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশজুড়ে চলবে। সেখানে বেশ কিছু প্রাক্তন তারকার উপস্থিতি থাকবে। সঙ্গে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থাকছেই। এর বাইরে আরও একটা খবর শোনা গেল। আগামী ২০৩০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিমের সংখ্যা বাড়তে পারে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কুড়িটা দেশ খেলেছিল। দু’বছর পরের বিশ্বকাপেও ফরম্যাট মোটামুটি এক থাকবে। তারপরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে টিমের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আগামী নভেম্বরে আইসিসি বৈঠকে হয়তো সবকিছুতেই সিলমোহর পড়বে।
শেয়ার
লিংক



