অশান্তির জন্যই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ, জানাল এসআরএফটিআই, বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের ডাক

কলকাতা: সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর কয়েক জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে, কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মভঙ্গ, ভাঙচুর, সম্পত্তি নষ্ট করা এবং শারীরিক নিগ্রহের মতো নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই শো-কজ নোটিস ও বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের একাংশ।
রবিবার এসআরএফটিআইয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পেশ করেন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একটি বিবৃতিতে তাঁরা জানান, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশের অধিকারকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁদের বক্তব্য, আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
– বিজ্ঞাপন –
উপাচার্যের দফতরে ভাঙচুরের অভিযোগ
এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের ঘটনাবলি পর্যালোচনার জন্য গঠিত ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি’ এবং ‘ডিনস কাউন্সিল’-এর সুপারিশের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শো-কজ নোটিস ও বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৫ অক্টোবর কয়েক জন শিক্ষার্থী উপাচার্যের দফতর দখল করে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। দফতরের জানলার কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি এসি এবং জলের লাইনও কেটে দেওয়া হয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। উপাচার্যকে ঘেরাও, গালিগালাজ ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এমনকি, এক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে শারীরিক নিগ্রহ করেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ফিল্ম এবং ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়া বিভাগের সমস্ত শিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস ও হস্টেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও কয়েক জন শিক্ষার্থী তা অমান্য করে বেআইনিভাবে ক্যাম্পাসে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।
এসআরএফটিআইয়ের আন্দোলনে যাদবপুর-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংহতি
এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই) এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের একাংশ বৃহত্তর আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক গবেষক জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই আন্দোলনকে আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসআরএফটিআই, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া এবং আইআইটি বম্বে-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের আন্দোলনের পিছনে শিক্ষার অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিসর রক্ষার প্রশ্ন রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
২৭ তারিখ থেকে জাতীয় স্তরে আন্দোলনের উদ্যোগ
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এসআরএফটিআইয়ের বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, শিক্ষার স্বাধীনতা, ক্যাম্পাসে মুক্তচিন্তার পরিসর এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন চলছে, এসআরএফটিআইয়ের প্রতিবাদ তারই ধারাবাহিকতা।
আগামী ২৭ তারিখ থেকে জাতীয় স্তরে ছাত্র আন্দোলনের যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতেও অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্যাম্পাসের বাইরে আলোচনা, মতবিনিময় এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এসআরএফটিআইয়ের পরিস্থিতি ঘিরে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ও পড়ুয়াদের প্রতিবাদ—দুইয়ের মধ্যেই এখন নজর রয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। একদিকে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফেরানোর প্রশ্ন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিবাদের পরিসর—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।



