0%

সীমান্তে তৈরি হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি! ভারত না চিন, সৈন্য শক্তিতে এগিয়ে কে?

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে ভারত এবং চিনের সেনাদের সংঘাতের কারণে শিরোনামে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh)। অরুণাচলের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় ভারত এবং চিন সেনারা জড়িয়েছে ঝামেলায়। তা নিয়েই সম্প্রতি মুখ খুলেছিলেন ইন্দো-তিব্বতীয় সীমান্ত পুলিশ বা আইটিবিপি-র প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন নিয়ে মুখ খুলে আইটিবিপি প্রধান বলেন, প্রচলিত উপায়ে এই মুহূর্তে ভারতের পক্ষে চিনের সামরিক শক্তির মোকাবিলা করাটা কঠিন হতে পারে। যদিও তিনি এও বলেন, বর্তমান সময়ে ড্রোন ব্যবহার করে ছোট দেশও বড় দেশকে টেক্কা দিতে পারে। ভারত এবং চিনের মধ্যে বড়সড় সংঘাতের সম্ভাবনার মধ্যেই চলুন দেখে নেওয়া যাক সামরিক বা সৈন্য শক্তিতে কোন দেশ কতটা এগিয়ে (India Vs China)।

ভারত এবং চিনের সৈন্য শক্তি

বর্তমানে সীমান্ত সংঘর্ষের আবহে ভারত এবং চিনের প্রতিরক্ষা বা সামরিক সক্ষমতার মধ্যেকার মূল পার্থক্য বা ব্যবধান বোঝার ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দাবি, 2025 সালে চিন তার নিজস্ব সামরিক খাতে 336 বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। যেখানে ভারত ওই একই সময়ে খরচ করেছে মাত্র 92.1 বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নিজেদের সামরিক খাতে ভারতের তুলনায় অন্তত 3.6 গুণ বেশি অর্থ খরচ করেছে ড্রাগন।

তাছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্রমাগত বেড়েছে চিনের সামরিক ব্যয়। সিপ্রি বলছে, 2015-16 আর্থিক বছরেই চিনের সামরিক খাতে ব্যয় 62 শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু সামরিক ব্যয় দিয়েই দুই দেশের মধ্যে সৈন্যশক্তি বিচার করা যায় না। DW কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত বিশেষজ্ঞ কমোডর সি উদয় ভাস্কর জানিয়েছেন, “ভারত এবং চিনের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির এক বিরাট ব্যবধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারতকে সতর্ক হতে হবে।”

তাঁর দাবি, গালওয়ান সংঘর্ষের পর চিনের অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বোঝা যায় ভারত সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি একপ্রকার মেনে নিতে তৈরি। এবার আসা যাক সরাসরি দুই দেশের সৈন্য শক্তির প্রসঙ্গে। এই মুহূর্তে ভারতের কাছে রয়েছে 14 লাখ 31 হাজার সক্রিয় সেনা। যেখানে চিনের কাছে রয়েছে 20 লাখ 35 হাজার সেনা।

যদি রিজার্ভ সেনার কথা বলা যায় সে ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে চিন। ড্রাগনের দেশের কাছে এই মুহূর্তে প্রায় 5 লাখ 10 হাজার রিজার্ভ সেনা রয়েছে। যেখানে ভারতের কাছে রয়েছে প্রায় 10 লাখ সৈন্য। আধাসামরিক বাহিনীর নিরিখেও চিনের থেকে এগিয়ে ভারত। ভারতের কাছে রয়েছে এই মুহূর্তে 25.27 লাখ আধাসামরিক বাহিনী। অন্যদিকে চিনের কাছে রয়েছে 6.25 লাখ আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান।

পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে ভুয়ো তথ্য, হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত! গ্রেফতার কনটেন্ট ক্রিয়েটার

ভারতের কাছে এই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় 2,200। সেখানে চিনের সামরিক বাহিনীর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি। ট্যাঙ্কের হিসেব করলে ভারতের কাছে এই মুহূর্তে রয়েছে প্রায় 4 হাজার ট্যাঙ্ক এবং চিনের হাতে আছে 5,870টি ট্যাঙ্ক। নৌবহরের হিসাব করলে ভারতের কাছে এই মুহূর্তে 343টি নৌবহর রয়েছে। অন্যদিকে চিনের কাছে রয়েছে প্রায় 850টি। এই হিসাব থেকে বলা যায় সক্রিয় সেনার নিরিখে ভারতের থেকে অনেক এগিয়ে চিন। এদিকে আবার রিজার্ভ সেনার নিরিখে ভারত এগিয়ে। সামগ্রিক প্রচলিত সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে Global Firepower-এর 2026 সালের তালিকায় চিন তৃতীয় এবং ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যেতেই পারে, চিনের সামরিক ব্যয় ভারতের থেকে কয়েকগুণ বেশি হলেও সৈন্য শক্তি ও অন্যান্য সামরিক ক্ষেত্রে ড্রাগনকে বেশ টেক্কা দিচ্ছে ভারত।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker