বামেই ভরসা ব্রাজিলের, ট্রাম্পের ‘ষড়যন্ত্র’ ব্যর্থ করে ফের প্রেসিডেন্ট লুলা

গোটা লাতিন আমেরিকা ঝুঁকছে দক্ষিণে। কিন্ত ব্রাজিল আস্থা রাখল বামেই। চতুর্থবারের জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হলেন লুলা দা সিলভা। পঞ্চাশ শতাংশ ভোট গিয়েছে তাঁর ঝুলিতে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রবল সমর্থন সত্ত্বেও জিততে পারলেন না ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে হারের পর তিনিও ট্রাম্পের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বলেছেন, নির্বাচনের এই ফলাফল মোটেই মানছেন না। এই ফলাফল অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।
২০০৩ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন লুলা। তারপর ফের ক্ষমতায় ফেরেন ২০২২ সালে। গত চারবছর বেকারত্ব ঘোচানো, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের মতো কিছু কাজ করলেও ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট অসন্তোষ ছিল লুলাকে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সরকারি প্রকল্পে আরও বেশি সুবিধা ঘোষণা করেন। তবে লুলার প্রতিপক্ষ ফ্লাভিওর বিপক্ষেও ছিল ভুরি ভুরি অভিযোগ। যদিও ব্রাজিলে ‘বন্ধু’ ফ্লাভিওকে জেতানোর জন্য যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন ট্রাম্প। ৫০ শতাংশ শুল্কও চাপিয়ে দেন ব্রাজিলের উপর। তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেন ৮১ বছর বয়সি লুলা।
৫১ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর লুলা তোপ দেগেছেন ট্রাম্পকেই। যেভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন তাকে কটাক্ষ করে লুলা বলছেন, “ব্রাজিল কারোর বাড়ির পিছনে থাকা উঠোন নয়।” সেইসঙ্গে দেশবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, বিদেশি শক্তির প্রভাবকে পরাজিত করে ভোট দিয়েছেন আমজনতা। কীভাবে জনমানসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল বিদেশি শক্তিগুলি, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ফ্লাভিও সাফ জানিয়েছেন, এই ফলাফল মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে নির্বাচনের ফল বাতিল বলে ঘোষণা করা উচিত। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে লুলার জয়ের পর একই কথা বলেছিলেন ফ্লাভিওর বাবা জাইর বলসোনারোও। তারপর বোলসোনারো-পন্থীদের বিক্ষোভে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়াতে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গাড়িতে। পাশাপাশি পুলিশের সদর দপ্তরেও ঢোকার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়েছিল। এবারও কি সেরকম অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হবে পেলের দেশে?
শেয়ার
লিংক



