0%

জেন জি ম্যাজিক ইউরোপেও! ২ বছর ছাত্র আন্দোলনের জেরে নির্বাচনে হার প্রেসিডেন্টের

শুরুটা হয়েছিল উপমহাদেশে। এবার ছাত্রবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের আনাচে-কানাচে। ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইটালি-পড়ুয়াদের প্রতিবাদে জ্বলছে একের পর এক দেশ। এবার নির্বাচনী ময়দানেও জয়লাভ করতে শুরু করল ছাত্ররা। ভোটে জয়লাভ করে প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করল ছাত্রদের দল। রীতিমতো বিপ্লব ঘটে গেল নোভাক জকোভিচের দেশে। হার মেনে নিয়ে সরে দাঁড়াচ্ছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট।

গত দু’বছর ধরে ছাত্রবিক্ষোভ চলেছে বলকান দেশটিতে। রেল স্টেশন ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা থেকে শুরু হয় পড়ুয়াদের প্রতিবাদ। সেখান থেকে ছাত্ররা পা রাখে নির্বাচনী ময়দানে। স্টুডেন্টস লিস্ট পার্টি প্রত্যেকটি আসনেই প্রার্থী দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুজিচের দল সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি। রবিবার প্রকাশিত ভোটের ফলাফল বলছে, সার্বিয়ার পার্লামেন্টের ২৫০টি আসনের অন্তত ১৪০টি গিয়েছে স্টুডেন্টস লিস্টের ঝুলিতে। ভুজিচের দল থেমেছে ১০৫টি আসনে।

নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ১০ বছর ধরে রাজনীতি করা ভুজিচ। বলেছেন, “আমরা যে ভোটে হেরেছি সেটা খুবই স্পষ্ট। জিতে গিয়েছে ছাত্রদের দল।” ছাত্রদের জয়ে উচ্ছ্বাসে মেতেছে সার্বিয়ার অধিকাংশ এলাকা। কিন্তু তারপর থেকেই সার্বিয়ার রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, এবার দেশকে নেতৃত্ব দেবে কে? ছাত্ররা রাজনৈতিক ময়দানে নামলেও সে অর্থে কোনও নেতা বেছে নেয়নি। তাহলে দেশ চালানোর দায়িত্ব যাবে কার হাতে?

প্রসঙ্গত, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির দামবৃদ্ধি, শিক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পুড়ছে ফ্রান্স। যুবসমাজ আন্দোলনে নেমেছে আরও বহু দেশে। ভারতেও বাড়ছে ছাত্র আন্দোলন। নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর এবার ভোটার তালিকা নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় থাকা দেশগুলিতেও কি এবার ছাত্রনেতাদের দাপট দেখা যাবে? বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ছাত্রদের অনেকেরই দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। তাদের হাতে শাসনভার তুলে দিলে হিতে বিপরীত হবে না তো?

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker