পায়ের আঙুল ভেঙে গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের, কেমন আছেন বিরোধী দলনেতা?

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দিল্লিতে (Delhi) নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) গুরুত্বপূর্ণ কাজ, তার মধ্যেই বিপত্তি। বাঁ পায়ের আঙুল ভেঙে চোট পেলেন ঋতব্রত ব্যানার্জি (Ritabrata Banerjee)। নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যখন তৃণমূলের (Trinamool Congress) দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে, তখনই তাঁর এই চোটের খবর সামনে এসেছে।
কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
সূত্রের খবর, ব্যস্ততার মাঝেই এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তৃণমূল নেতা। কাজ মিটিয়ে কলকাতায় ফেরার পরেই পায়ে প্লাস্টার করাবেন তিনি। ঋতব্রত সহকর্মীদের থেকে জানা যায়, পায়ে আঘাত লাগলেও কাজ থামেনি, সেই আঘাত নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল নেতা।
নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়ার তাড়া
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে মমতা ব্যানার্জিপন্থী শিবির এবং ঋতব্রত ব্যানার্জিপন্থী শিবিরের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে। নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল বলে প্রতিষ্ঠা করতে দুই পক্ষকে সদস্যদের সমর্থনের প্রমাণ ও হলফনামা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই শিবিরকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার কথা। সেই কারণেই নথি দিল্লিতে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের তৎপরতা তুঙ্গে।
নথিবাহী গাড়ি নিয়ে কী অভিযোগ ঋতব্রতর?
এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই ঋতব্রত ব্যানার্জি অভিযোগ করেছেন, তাঁর শিবিরের হলফনামা ও অন্যান্য নথি নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে যাওয়া একটি ট্রাক হরিয়ানা সীমান্তের কাছে বাধার মুখে পড়ে। তাঁর দাবি, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর শিবিরের কর্মীরা সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, কালীঘাট শিবিরের নথি চার্টার্ড বিমানে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। অন্যদিকে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর শিবিরকে সড়কপথে নথি পাঠাতে হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।
ঋতব্রতর অভিযোগের জবাবে মমতা ব্যানার্জির শিবিরের নেতারা তা অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর শিবিরের নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও অভিযোগ করেছেন, তাঁর শিবিরকে চাপে রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
হবে সরকারি প্রকল্প থেকে ব্যাঙ্কের যাবতীয় কাজ, বাংলায় বসছে ৭০ দিনের বিশেষ ক্যাম্প
তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং দলের স্বীকৃতি নিয়ে বিরোধ মেটাতে আগামী ৩০ অক্টোবর দুই শিবিরকে মুখোমুখি শুনানির জন্য ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে তার আগে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া দুই পক্ষের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, একদিকে নির্বাচন কমিশনকে নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা, অন্যদিকে নথিবাহী গাড়ি নিয়ে অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাঁ পায়ের আঙুল ভাঙার চোট নিয়ে রীতিমতো নাজেহাল ঋতব্রত ব্যানার্জি।



