0%

এবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকে ‘মুসলিম ন্যাটো’! আদৌ কাটবে যুদ্ধজট? থাকছেন ‘শান্তির দূত’ মুনিরও

আট মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইরান। দফায় দফায় বৈঠক, চুক্তির পরও মেলেনি সমাধানসূত্র। বরং পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ‘মুসলিম ন্যাটো’। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি (মুসলিম ন্যাটো) স্বাক্ষরকারী তিন দেশ সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের প্রতিনিধিরা। ইসলামাবাদের তরফ থেকে রয়েছেন পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির। প্রশ্ন উঠছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে আদৌ কি কাটবে যুদ্ধজট?

তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বৈঠকটি এমন সময় বসছে, যখন সৌদির বিরুদ্ধে রক্তাক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত ইরান সমর্থিক ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথিরা। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিমানবন্দর, তৈলঘাঁটি-সহ সৌদির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালাচ্ছে তারা। হাউথিদের ‘মারে’ কার্যত বেসামাল হয়ে পড়েছে সৌদি। জানা গিয়েছে, একাধিক ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। এর জেরে সৌদিকে পাঠানো বহু মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম এখন হাউথির হাতে চলে এসেছে। ফলে আমেরিকার অস্ত্রেই এখন সৌদি ‘বধ’ করছে হাউথি বাহিনী।

মক্কা চুক্তি অনুযায়ী, কোনও একটি স্বাক্ষরকারী দেশের উপর হামলা হলে, বাকি দুই স্বাক্ষরকারী দেশও তা নিজেদের উপর হামলা হিসাবে বিবেচিত করবে। অর্থাৎ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যৌথভাবে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছে তিন দেশ। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মক্কা চুক্তি শিকেয়। ‘বন্ধু’ সৌদির হয়ে রণক্ষেত্রে এখনও নামেনি পাকিস্তান এবং তুরস্ক। আপাতত তারা হাত গুটিয়ে বসে।

এদিকে গত জুন মাসে আমেরিকা-ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। মধ্যস্থতায় ছিল কাতার এবং পাকিস্তান। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চুক্তির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফের রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয় দুই দেশ। সেই যুদ্ধের আগুন এখনও জ্বলছে। হামলা এবং পালটা হামলায় অশান্ত পশ্চিম এশিয়া। এরপর একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা হলেও সমস্তই ব্যর্থ হয়েছে। তবে শান্তি ফেরাতে সম্প্রতি নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে কাতার এবং পাকিস্তান। গত সপ্তাহেই ইরানি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুনির। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হলে, তারা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসবে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, কার্যক্ষেত্রে যেখানে ‘মুসলিম ন্যাটো’ ব্যর্থ, তখন তাদের পক্ষে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানো দিবাস্বপ্ন মাত্র। 

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker