0%

‘অসাধারণ নেতা’, বেজিংয়ে বৈঠক সেরেই জিনপিংয়ের প্রশংসা, কেন সম্পর্কের শৈত্য কাটাতে মরিয়া ট্রাম্প?

বুধবার তিন দিনের চিন সফরে বেজিংয়ে পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক দফায় চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরেছেন তিনি। বৈঠক সেরে জিনপিংকে প্রশংসায় ভরালেন ট্রাম্প। এদিন তিনি বলেন, জিনপিং একজন ‘অসাধারণ নেতা’। চিনের সঙ্গে সম্পর্কের ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ নিয়ে আশাবাদী আমেরিকা। যোগ করেন, চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং তাঁকে নিজের ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করাও ‘সম্মানে’র বিষয়। ড্রাগনের দেশের সঙ্গে সম্পর্কের শৈত্য কাটাতে হঠাৎ এতটা মরিয়া কেন ট্রাম্প?

বৃহস্পতিবার সকালে বেজিংয়ের তিয়েনানমেন স্কোয়ারে ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ দুই রাষ্ট্রনেতা বৈঠকে বসেন। লাল গালিচা পেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বাগত জানান জিনপিং। এরপর করমর্দন করে দুই রাষ্ট্রনেতা ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ প্রবেশ করেন। ট্রাম্প-জিনপিং ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দু’দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা। সূত্রের খবর, বৈঠকে জিনপিং বলেন, “অশান্ত বিশ্বে আমরা একসঙ্গে স্থিতিশীলতা আনতে পারি। প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে পারি। দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও মানবতার স্বার্থে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উজ্জ্বল করতে পারি।”

আরও পড়ুন:

বলা বাহুল্য, দুই বিশ্বশক্তির বৈঠকের দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। যদিও ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং তাইওয়ানের মতো অস্বস্তিকর বিষয় নিয়ে ঠিক কী কথা হয়েছে ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের মধ্যে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও জিনপিংয়ের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্বের কথা মিডিয়াকে ফলাও করে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমাদের খুব ভালো বনিবনা রয়েছে। কোনও অসুবিধা হলেই আমরা তার সমাধানও করেছি। আমি আপনাকে (জিনপিংকে) ফোন করতাম, অথবা আপনি আমাকে ফোন করতেন। লোকে জানে না, যখনই আমাদের (চিন ও আমেরিকার) মধ্যে কোনও সমস্যা হত, আমরা খুব দ্রুত তার সমাধান করে ফেলতাম।”

আরও পড়ুন:

এইসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আপনি একজন অসাধারণ নেতা। অনেকে আমার এই কথাটা পছন্দ করে না, কিন্তু আমি তবুও বলি। কারণ এটা সত্যি। আপনার সঙ্গে থাকাটা সম্মানের, আপনার বন্ধু হতে পারাটাও সম্মানের। একসঙ্গে আমরা এক চমৎকার ভবিষ্যৎ গড়তে চলেছি।” উল্লেখ্য, কূটনৈতিক, আর্থিক তৎসহ ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চিনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে গোটা বিশ্বজুড়ে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ। যেখানে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে বেজিং। বলার অপেক্ষা রাখে না, বৈশ্বিক শক্তির দিক থেকে রাশিয়ার তুলনায় চিন এখনা আমেরিকার বড় প্রতিপক্ষ। এই অবস্থায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতায় আসতে চাইছে ওয়াশিংটন। এখন প্রশ্ন উঠছে, তিনদিনের সফরে ট্রাম্প কি জিনপিংয়ের মন গলাতে পারবেন? নাকি দুই বিশ্বশক্তির দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

শেয়ার

লিংক

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker