0%

যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখলেই হতে পারে জরিমানা, শহরে চালু কড়া পার্কিং নিয়ম‌

বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতার (Kolkata) রাস্তায় যানজট এবং বেআইনি পার্কিং দীর্ঘদিনের সমস্যা। রাস্তার একাংশ জুড়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যেমন বাড়ছে ট্র্যাফিকের চাপ, তেমনই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদেরও। অতীতে এই ইস্যুতে পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে খুব একটা বদল দেখা যায়নি। তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার বেআইনি পার্কিংয়ের (Parking) বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে প্রশাসন।

কলকাতার (Kolkata) বেআইনি পার্কিংয়ে কড়াকড়ি

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পার্কিং জোনের বাইরে কিংবা নো-পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখলে চালকদের ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। এই বিষয়ে শহরের ২৭টি ট্রাফিক গার্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে লালবাজার। কলকাতা পুরসভার অনুমোদিত জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি পার্ক করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া রাস্তায় টাকা নিয়ে পার্কিং করালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি অনুমোদিত পার্কিং জোনে শুধুমাত্র ওয়ান লাইন পার্কিং চালু রাখতে হবে। কোথায় কতটা জায়গা পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত, তা ডিসপ্লে বোর্ডে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই বোর্ডে পার্কিং ফি-র পরিমাণও লিখে রাখতে হবে এবং পার্কিং কর্মীদের ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বেআইনি পার্কিং প্রসঙ্গে পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আজই নোটিস দিচ্ছি। রাস্তার দু পাশে অবৈধভাবে পার্কিং বন্ধ হবে। যেদিকে পার্কিং করার কথা নয়, সেখানে কোনও গাড়ি থাকবে না। মানুষের সুবিধা হবে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ফেক পার্কিং স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা হয়, যে টাকা রাজস্ব দফতরে আসে না। সেই স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা যাবে না।”

এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন,”যেখানে পার্কিং করার কথা সেখানেই গাড়ি রাখতে হবে। এখন যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। কিছু মানা হয় না। বেআইনিভাবে পয়সা তোলা হয়। তাতে সাধারণ জনতার অসুবিধা হয়।”

strict parking rules introduced in Kolkata

আরও পড়ুন : কল্যাণ-অরূপ-শোভনদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত লালবাজারের

প্রসঙ্গত, গত বছরও রাস্তার ধারের পার্কিং নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাস্তার ধারে পার্কিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত শহরের রাস্তা পরিষ্কার ও আবর্জনা অপসারণের সুবিধার জন্যই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। এবার নতুন সরকারের এই কড়া অবস্থানের ফলে শহরের ট্র্যাফিক পরিস্থিতি কতটা বদলায় এবং বেআইনি পার্কিং রোখা যায় কি না, সেদিকেই নজর থাকছে কলকাতাবাসীর।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker