কেরলে পালাবদলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ভিডি সতীশন! গঠিত হল ২২ জনের মন্ত্রিসভা

সবদিক নিউজ:কেরলের (Kerala) নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ভিডি সতীশন। তিরুবনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকর তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, এআইসিসি-র একাধিক শীর্ষ নেতা এবং সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে দেখা যায় বিজেপির কেরল রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরকেও। রাজনৈতিক সৌজন্যের এই ছবি কেরলের রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
কেরলে (Kerala) পালাবদলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ভিডি সতীশন!
শপথ অনুষ্ঠানে জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে প্রবল গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া অনুষ্ঠানের ছন্দে কিছুটা প্রভাব ফেলে। মঞ্চে উপস্থিত বহু অতিথিকেই কাগজ বা রুমাল দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রী সতীশন থেকে শুরু করে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং দীপা দাশমুন্সির মতো ভিভিআইপি অতিথিদেরও গরমে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। তবু উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি সমর্থকদের মধ্যে। নতুন সরকারকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ।
তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মন্ডলকে খুঁজছে পুলিশ, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ল গুণধর ছেলে
সতীশনের সঙ্গে আরও ২১ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২২ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হয়েছে কেরলে। এই মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ রমেশ চেন্নিথালা, যিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়েও ছিলেন। তাঁকে স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শপথের ঠিক আগে তিনি বলেন, “কেরলের মানুষ ইউডিএফ-কে জিতিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করেছে দল। দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মানতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিললেও প্রকাশ্যে ঐক্যের বার্তাই দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
গত মাসে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর একমাত্র কেরলেই সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পদে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ডকে একাধিক দফায় বৈঠক করতে হয়। শেষ পর্যন্ত ভিডি সতীশনের নামেই সিলমোহর দেয় দল। এর ফলে তেলেঙ্গানার পর আরও একটি রাজ্যে কংগ্রেস সরকার গঠন করল। বর্তমানে দেশে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় কংগ্রেসের হাতে ছিল ১৪টি রাজ্যের ক্ষমতা।

অবসরের আগে তৈরি করুন ৫.৪০ কোটির তহবিল, PPF বিনিয়োগে কত টাকা জরুরি জানেন?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শপথ মঞ্চে সিপিএমের পিনারাই বিজয়ন এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরের উপস্থিতি কেরলের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। শপথের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী সতীশন ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি জানান, কেরলের (Kerala) উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে। নতুন সরকারকে ঘিরে এখন প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।



