0%

The meteoric rise of accused of Surendranath college insident Paritosh Dutta

মাত্র ৩০০ টাকা রোজ মাইনের বিনিময়ে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা পরিতোষ দত্ত। বছর দশেকের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার মালিক। শুধুমাত্র নিজের গ্রামেই রয়েছে চার চারটি বাড়ি। গ্রামে ঢোকার মুখেই কোটি টাকার উপর খরচ করে তৈরি হচ্ছে লজ। হুগলির কোন্নগরেও রয়েছে তাঁর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। সুরেন্দ্রনাথ কলেজ (Surendranath College) কাণ্ডে সিঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা সামান্য তাঁত শ্রমিকের ছেলে পরিতোষ দত্ত গ্রেপ্তারের পর তাঁর এই রকেটের গতিতে উত্থান নিয়ে চর্চা চলছে এলাকায়। তবে গ্রামবাসীদের কাছে পরিতোষ ‘পরোপকারী ছেলে’ বলেই পরিচিত। গ্রামবাসীদের দায় বিপদে অকাতরে দান করতেন। নিজের টাকায় সিঙ্গি গ্রামে দু’টি মন্দিরও নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি। এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে গত ২ জুন দুপুরে দু’টি সুটকেস উদ্ধার করা হয়। তাতে প্রচুর পরিমাণে নষ্ট হয়ে যাওয়া টাকা ছিল। টাকার নোটগুলি সবই উই ধরা। এর পর রাতে সেখান থেকেই পাওয়া যায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র। ওই ঘটনায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কানকাটা দেবুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রাম থেকে বছর চল্লিশের পরিতোষ দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Paritosh-Dutta-2
পরিতোষ দত্তের ‘প্রাসাদ’। ছবি: জয়ন্ত দাস

উল্লেখ্য,প্রায় দুমাস আগে দুর্ঘটনায় পরিতোষের পা ভেঙেছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাড়িতেই বিশ্রামে ছিলেন। সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভেণ্ডরের কাজ করতেন ঠিকাদার পরিতোষ। সুরেন্দ্রনাথ কলেজে (Surendranath College) উই ধরা টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় কানকাটা দেবুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। সিঙ্গি গ্রামের দত্তপাড়ার বাড়ি পরিতোষ দত্তর। বাবা পাঁচকড়ি দত্ত ছিলেন পেশায় তাঁতশ্রমিক।মা সান্তনাদেবী গৃহবধূ। বাবা মায়ের একমাত্র পুত্র। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাবা পাঁচকড়ি দত্ত জানিয়েছেন , ‘দত্ত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি এজেন্সি খুলে ঠিকাদারির কাজ কাজ করতেন তাঁর ছেলে। নির্মাণ কাজ, রঙের কাজ ফার্নিচারের কাজ ইত্যাদি করতেন।

কানকাটা দেবুর সঙ্গে কমিশনের ভিত্তিতে সেই কাজ করতেন বলে দাবি করেছেন পরিতোষের বাবা। ছেলের গ্রেপ্তারের পর পরিতোষের মা সান্তনাদেবী ভেঙে পড়েছেন। সান্তনাদেবীর কথায়,” মাত্র তিনশো টাকার দিন মজুরির বিনিময়ে আমার ছেলে কাজ করতে বেড়িয়ে গিয়েছিল। নিজের চেষ্টায় সে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমার ছেলে কোনও অপরাধ করতে পারে না। ওকে কেউ ফাঁসিয়ে দিয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মাত্র কয়েকবছরের মধ্যেই জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন চলে আসে পরিতোষের। সিঙ্গি গ্রামে ঢোকার মুখেই বিশাল অট্টালিকাসম একটি লজ তৈরি করছিলেন পরিতোষ। গ্রামের বুকে রয়েছে চারটি বাড়ি। তবে গ্রামে কমই থাকতেন। কোন্নগরে ফ্লাটে বসবাস করতেন পরিতোষ। সেখান থেকেই কলকাতায় যাতায়াত করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে বিধানসভা ভোটের কয়েকদিন আগে কলকাতা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিলেন পরিতোষ। পাটুলি রেলস্টেশন থেকে ট্রেন ধরার কথা ছিল। মামাতো ভাই স্কুটিতে চাপিয়ে রেলস্টেশন পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পা ভাঙে পরিতোষের। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে টানা চিকিৎসার পর সিঙ্গিতে চলে আসেন। বিশ্রামে ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। তারপর গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়রা জানতেন পরিতোষ ঠিকাদারির কাজ করেন। কিন্তু তাঁর আয়ের উৎস কোথায় -তা নিয়ে কেউ জানতেন না। কেউ মাথা ঘামাতে ও চাননি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন গ্রামের সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক ছিল পরিতোষের। গ্রামে দুটি মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছেন। বহু কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাকে সামান্য করেছেন। সুরেন্দ্রনাথ কলেজ কাণ্ডে পরিতোষের গ্রেপ্তারের পর কার্যত স্তম্ভিত প্রতিবেশীরা। ধৃতের বাবার দাবি, তাঁর ছেলে কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker