পাকিস্তানে গুরুদ্বারের ভিতরেই হাড়হিম করা ঘটনা! গুলি করে খুন বৃদ্ধ শিখ দম্পতিকে

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি গুরুদ্বারের ভিতরে বৃদ্ধ শিখ দম্পতিকে গুলি করে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে। জন্য গিয়েছে, জগন্নাথ এবং তাঁর স্ত্রী আসমা দীর্ঘদিন ধরে ওই গুরুদ্বারের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হামলাকারীরা পলাতক। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
পাকিস্তানে (Pakistan) গুরুদ্বারের ভিতরেই বৃদ্ধ দম্পতিকে গুলি করে খুন:
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হোতি থানার অন্তর্গত বাবু মহল্লা খাজা গঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থিত গুরুদ্বারটিতে প্রতিদিনের মতোই বুধবার সকালেও গিয়েছিলেন জগন্নাথ এবং তাঁর স্ত্রী। গুরুদ্বারের দেখভাল এবং দৈনন্দিন কাজকর্মের দায়িত্ব তাঁদের উপরই ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক গুরুদ্বারের ভিতরে প্রবেশ করে। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কেউ সন্দেহ না করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ, হামলাকারীরা আচমকাই ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে (Pakistan)।
আরও পড়ুন: আর নয় অপেক্ষা! জুলাই থেকেই কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ঘোষণা হল দিনক্ষণ
গুলির শব্দে গুরুদ্বারের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত মানুষজন প্রাণভয়ে ছুটোছুটি শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জগন্নাথ এবং আসমা ওয়ান্টি। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। গুরুদ্বারের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে এই হামলার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটি ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হামলা—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর সেই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর বিশ্বের দরবারে বাংলার দুর্গাপুজো, বড় পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহল। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে (Pakistan) ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। অন্যদিকে, অকাল তখতের জঠেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গর্গাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মহম্মদ সোহেল খান আফ্রিদির কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। গুরুদ্বারের সেবায় নিয়োজিত এক প্রবীণ দম্পতির এই মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং পাকিস্তানে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।




