Esha Deol: ‘প্রেমের অভাব অনুভব করি’, বিচ্ছেদের পর অকপট ঈশা দেওল

বিবাহবিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি মুখ খুলতে দেখা যায়নি ঈশা দেওলকে। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী অকপটে জানালেন, সম্পর্ক ভেঙে গেলেও প্রেমের উপর তাঁর বিশ্বাস আজও অটুট। বরং জীবনে ভালোবাসা এবং রোম্যান্সের অভাবই এখন সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন তিনি।
একটি পডকাস্টে অতিথি হয়ে ঈশা জানান, জনসমক্ষে থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন সামলানো মোটেও সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে স্বামী ভরত তখতানির সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেও দুই মেয়ের দায়িত্ব আজও দু’জনে মিলেই পালন করছেন।
Samantha Ruth Prabhu: ‘আমি শেষ হয়ে গেছি’, জীবনের কঠিন সময়ে কেন এমন ভাবতেন সামান্থা?
বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে ঈশা বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। দু’জন মানুষের সম্পর্কের মধ্যে যা ঘটে, তা জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত নয়। কিন্তু আমরা এমন একটি পেশার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ব্যক্তিগত জীবনও মানুষের নজরে চলে আসে। আমি, ভরত কিংবা ওর পরিবার- কেউই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পছন্দ করি না। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের সেই জায়গায় দাঁড় করিয়েছিল। তার উপর আমাদের সন্তানরাও রয়েছে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সতর্কতার সঙ্গে নিতে হয়েছে। এই কঠিন সময়ে আমার পরিবার সবসময় আমার পাশে ছিল।”
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী আরও জানান, বর্তমানে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি তাঁর নিজের নয়, বরং টিমের সিদ্ধান্ত। ঈশার কথায়, “পরিবারের জন্য সময়টা খুব সংবেদনশীল ছিল। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছিল। তাই আমার টিম আপাতত কমেন্ট অপশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি আরও মনে করেন, তারকাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া মানেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সীমাহীন মন্তব্য করার অধিকার নয়।
Sreelekha Mitra: ‘দু’ঘণ্টায় গ্রেফতার সম্ভব হলে আগে কেন নয়?’ তমান্না-কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শ্রীলেখা মিত্র
আলোচনার এক পর্যায়ে প্রেম নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও অকপটে শোনান ঈশা। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমার জীবনে যে জিনিসটার সবচেয়ে বেশি অভাব অনুভব করি, সেটা হল ভালোবাসা আর রোম্যান্স। আমি ভীষণ রোম্যান্টিক মানুষ। প্রেমের গল্প, প্রেমের গান- এসব আজও আমাকে টানে।” তবে অতীতের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া তাঁর ভালোবাসার ধারণাকে বদলে দিতে পারেনি বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। “ব্রেকআপ জীবনেরই অংশ। অতীতেও সম্পর্ক ভেঙেছে। কিন্তু তাই বলে ভালোবাসার উপর আমার বিশ্বাস কখনও কমেনি। আমি এখনও মনে করি, সত্যিকারের ভালোবাসা পৃথিবীতে রয়েছে।”
নিজের বাবা-মা ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ঈশা বলেন, তাঁদের মধ্যে যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সম্মান এবং মর্যাদা তিনি দেখেছেন, আজকের দিনে সেই ধরনের সম্পর্ক খুবই বিরল।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ব্যবসায়ী ভরত তখতানিকে বিয়ে করেন ঈশা দেওল। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২৪ সালে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে বিচ্ছেদের ঘোষণা করলেও, সন্তানদের ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আজও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন প্রাক্তন এই দম্পতি।



