মমতার এই প্রশ্নের জন্যই ছেড়েছেন তৃণমূলের সব পদ! এবার বোমা ফাটালেন চন্দ্রিমা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছায়াসঙ্গীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। দলের কঠিন সময়েও ‘দিদি’র হাত ছাড়েননি। তবে তৃণমূল নেত্রীর একটি প্রশ্নে ওলটপালট হয়ে গেল সব সমীকরণ। শনিবার তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা। কেন এই সিদ্ধান্ত সেটাও খোলসা করেছেন তিনি।
মমতার এই প্রশ্নের জন্যই ইস্তফা চন্দ্রিমার | (Chandrima Bhattacharya)
এদিন মমতাকে একটি চিঠি দিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সহ সব পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা। দলের অ্যাকাউন্টের সিগনেটরির দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি। এরপরেই প্রশ্ন ওঠে, ২৪ ঘণ্টা আগেও বাইপাসের ধারে তৃণমূলের পার্টি অফিসে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা। তাহলে হঠাৎ কী এমন হল যে এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?
আরও পড়ুনঃ শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে সরকারি ছুটি! রাজ্যের আদালতগুলি খোলা থাকবে কিনা জানুন
দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন বিধায়ক জানান, আনুগত্য নিয়ে দলনেত্রী প্রশ্ন তোলায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। চন্দ্রিমা বলেন, “দলের জন্মলগ্নে না থাকলেও দীর্ঘদিনের সৈনিক হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সংগঠনকে মজবুত করার চেষ্টা করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। ৩ জুন রাজ্য সভাপতি পদে নিযুক্ত করার পর থেকে রোজ মেট্রোপলিটনের অফিসে গিয়েছে। ২২ জুন ও ১ জুলাই ছাড়া। আমার সহকর্মীরা সেকথা স্বীকার করবেন”।
এরপর গতকাল ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল ভবন ‘দখলের’ প্রসঙ্গ টেনে চন্দ্রিমা বলেন, “কাল বেশ কয়েকজন বিধায়ক গিয়েছিলেন। আমি যতক্ষণ ওখানে ছিলাম তাঁরা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। বাড়ি ফেরার পর মমতাদি আমায় ফোন করতে বলেন। ফোন করলে উনি বলেন, তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে?”
চন্দ্রিমা বলেন, একথা শুনে তিনি ভীষণ দুঃখ পান। পাল্টা মমতাকে জিজ্ঞেস করেন, দিদি একথা আপনি বলতে পারলেন? এরপরেই তৃণমূলের সব পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর কথায়, “এই কারণে আমি ভাবলাম আমার অনুগত্যে প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমার আর কাজ করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। আমি অনেক সময় অনেকের প্রতি কঠিন হলেও আমার আনুগত্যে কোনও খামতি নেই। বেদনাহত মন নিয়ে আমি ছাড়লাম”।
চন্দ্রিমা এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ার পরেই তাঁর ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানোর জল্পনা তীব্র হয়। পদত্যাগের পর বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বৈঠক করেন তিনি। সেই ছবি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।



