0%

অন্নপূর্ণার টাকা পেল মা, পায়নি বউ, সংসারে অশান্তির জেরে বিডিও অফিসে কান্নাকাটি যুবকের

সবদিক নিউজ: একদিকে নিজের জন্মদাত্রী মা, অন্যদিকে অর্ধাঙ্গিনী বউ! আর এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে খোদ বিডিও অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে এক যুবকের হাহাকার ও কান্নাকাটি! প্রায় সব সংসারেই কমবেশি শাশুড়ি-বউয়ের খিটমিট লেগে থাকে, কিন্তু নদিয়ার তেহট্টে এই অশান্তির কারণ সম্পূর্ণ আলাদা। রাজ্য সরকারের নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকাকে কেন্দ্র করে ঘরের ভেতর এমন তুলকালাম শুরু হয়েছে যে, শেষমেশ বিডিও অফিসের বিক্ষোভের মঞ্চে এসে বুক ফাটালেন এক ভুক্তভোগী যুবক।

নদিয়ার তেহট্ট ১ নম্বর ব্লকে রাজ্য সরকারের নতুন সামাজিক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ফর্ম পূরণ করেছিলেন এলাকার প্রায় সমস্ত মহিলাই। ইতিমধ্যেই প্রথম মাসের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু এই টাকা ঢোকাকে কেন্দ্র করেই তেহট্টের এক যুবকের সংসারে একেবারে কুরুক্ষেত্র বেঁধে গিয়েছে। দিন কয়েক আগে তেহট্ট ১ নম্বর বিডিও অফিসের সামনে যখন টাকা না পাওয়া মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন আচমকাই ভিড়ের মাঝখান থেকে ক্ষোভে ও যন্ত্রণায় ফেটে পড়েন এক স্থানীয় যুবক। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ বর্তমানে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।

“বউ বলছে, তুমি মায়েরটা করে দিলে, আমারটা কেন নয়?”, ভাইরাল সেই ভিডিও-র অন্দরে কী?

ওই ভাইরাল ভিডিওতে ক্ষুব্ধ যুবককে বলতে শোনা যাচ্ছে, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আমার বাড়িতে মা-ও আবেদন করেছিল, আবার আমার বউও আবেদন করেছিল। এখন মায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে, কিন্তু বউয়ের অ্যাকাউন্টে এক পয়সাও ঢোকেনি! ব্যস, এই নিয়ে বাড়িতে চব্বিশ ঘণ্টা মারাত্মক সাংসারিক অশান্তি লেগে গিয়েছে। বউ আমাকে সন্দেহ করে রোজ বলছে, তুমি নিশ্চয়ই মায়ের ফর্মটা ভালো করে জমা দিয়েছ, আর আমারটা ইচ্ছা করে ভুল করেছ! মায়ের ঢুকল, বউদির ঢুকল, কিন্তু আমারটা কেন ঢুকল না? আমার মতো তেহট্টের ঘরে ঘরে এখন এই প্রকল্প নিয়ে শাশুড়ি-বউয়ের যুদ্ধ চলছে!” ওই যুবকের এই অকপট স্বীকারোক্তি শুনে সেখানে উপস্থিত বাকি বিক্ষোভকারীরাও হেসেই আকুল হন এবং তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

যোগ্যরা বঞ্চিত, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ারাও পাচ্ছেন টাকা! বিডিও-র ঘেরাওয়ে মহিলারা

মজার এই ঘটনার আড়ালে অবশ্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের স্ক্রুটিনি ও বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারী মহিলারা। তেহট্টের আন্দোলনরত মহিলাদের স্পষ্ট দাবি, “যাঁরা এই প্রকল্পের টাকা পাওয়ার একেবারেই যোগ্য নন, তাঁদের অনেকের অ্যাকাউন্টে ধপাধপ টাকা ঢুকে গিয়েছে। এমনকী এসআইআর (SIR) ভেরিফিকেশনে যাঁদের নাম নিয়মের বেড়াজালে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরাও দিব্যি সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন! তাহলে আমরা যারা সব নিয়ম মেনে ফর্ম জমা দিলাম, তারা কেন বঞ্চিত হব?” এই চরম বৈষম্যের দ্রুত সমাধানের দাবিতে বিডিও-র কাছে ডেপুটেশন দিয়েছেন মহিলারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই যুবক নিজের পারিবারিক অশান্তি নিয়ে আর নতুন করে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker