0%

‘জেনে শুনে রোগ মাথায় চড়তে দিয়েছেন মমতা!’ ভালো-খারাপ তৃণমূল নিয়ে মাথাব্যথা নেই: দিলীপ ঘোষ

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বঙ্গ বিজেপির (BJP West Bengal) রাজনীতিতে বরাবরের দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। স্পষ্ট ভাষায় চাঁচাছোলা মন্তব্য করার ব্যাপারে, তাঁর জুড়ি মেলা ভার। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভালো ও আদি তৃণমূল (TMC) নিয়ে নানারকম কথা শোনা যাচ্ছে। এবিষয়ে অবশ্য দিলীপ ঘোষের সাফ কথা, ‘কে ভালো তৃণমূল, কে খারাপ তৃণমূল এটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা নেই। কাউকে সার্টিফিকেট দেওয়ারও দরকার নেই। কিন্তু যারা এই ধরনের দুর্নীতি বা দুঃস্কৃত কার্যের সাথে যুক্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সে কে কোন পার্টিতে আছে? কোথায় আছে ? সেটা বিষয় নয়।’

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য কটাক্ষ করে দিলীপ বাবু এদিন বললেন, ‘উনি কোন দিকে আছেন? কখন কী বলছেন? ঠিক করুন? অনেকেই অনেক কিছু বলছেন। অনেকেই কনফিউজ। একটা পা কালীঘাটে আর একটা ওদিকে চলে গেছে ঋতব্রতর দিকে। সেজন্য ওনারা যে কনফিউশনে আছেন সেই একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ৮৯ সালে। যেবারে টিএমসি শুরু হল। ঠিক লোকসভা ইলেকশনের আগেই মমতা ব্যানার্জি টিএমসি শুরু করেছিলেন । তখন বেশিরভাগ কংগ্রেস লিডার এরকম কনফিউজড ছিলেন ।’

কংগ্রেসকেও এদিন ছেড়ে কথা বললেন না দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘কংগ্রেস সারাজীবন কনফিউজ। সারা দেশকে কনফিউজ করেছে, এখনও কনফিউজ। আর তার সঙ্গে যারা যুক্ত তারাও কনফিউজড।’ এরপরেই তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ে দিলীপ ঘোষের ভবিষ্যদ্বণী, ‘ এমনটা হবে কিছু লোক বেরিয়ে আসবে, কিছু লোক কংগ্রেসে ফিরে যাবে। কিছু লোক আলাদা গোষ্ঠী করে কিছুদিন থাকবে। পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে এই ধরনের ড্রামা প্রথমবার আমরা খোলাখুলি দেখলাম।’ একইসাথে বিরোধী পক্ষকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে বিরোধী পার্টি হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করুন। বাকি পার্টির ব্যাপার পার্টিতেই মেটান।’

আরও পড়ুনঃ আয়ুষ্মান কার্ড নিয়ে বড় সুখবর, একধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে ১০ লক্ষ হতে পারে স্বাস্থ্যবিমা!

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর এই টালমাটাল অবস্থার জন্য এদিন দিলীপ ঘোষ আরও একবার কাঠগড়ায় তুললেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। তাঁর কথায়, ‘রোগটা তো মাথায় উঠে গেছে, সেই জন্য একটা হাত-পা কেটে ফেললে কি করে হবে? এই রোগ বহুদিন ধরে লেগেছে নিচের থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেনে শুনে রোগকে মাথায় চড়তে দিয়েছেন। এখন কেউ ওনার বিরুদ্ধে বলতে পারছে না। ওনার নামেই তো খেয়েছে পড়েছে সব । এখন কাওকে বলির পাঠা বানাতে হবে। এরম বহু লোক আছে টিএমসিতে, যারা আজকের যে দুরবস্থা তার জন্য দায়ী।’

বিগত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ২১ জুলাই মানেই তাঁরা মেগা ইভেন্ট হিসাবেই পালন করে এসেছে। এবারেও পুলিশ তাদের অর্থাৎ কালীঘাট তৃণমূলকে ব্রিগেডে এই ২১ জুলাই পালন করার অনুমতি দিয়েছে কিন্তু তারা এবছর ব্রিগেডে সভা করতে রাজি নয়। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘ব্রিগেডে যাওয়ার মতো লোক কোথায় ওদের? যারা নামাজ পড়তেন রেড রোডে তাদেরকে অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ । তাঁরা করেছেন হিম্মত করে। নামাজ পড়েছেন ওখানে এবং ভালোভাবে হয়েছে। টিএমসির যদি দম থাকে শহীদ দিবস করার, যদি ওদের লোক থাকে তাহলে করুন কালীঘাটে, না হলে ঘরের মধ্যে করুন ছবিতে মালা দিন। সব সময় রাস্তায় করতে হবে নাকি? সম্মানের সঙ্গে ঘরের মধ্যে করুন।’

আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন বাড়াতে আবেদন করবে SSC! যোগ্য চাকরিহারাদের জন্য বড় খবর

প্রসঙ্গত এবছর কংগ্রেসের তরফ থেকে একুশে জুলাইয়ের এই শহীদ দিবস অনেক বড় করে পালন করা হচ্ছে। সেখানেই দলের তরফে আহ্বান জানানো হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, ‘কংগ্রেসের শহীদ দিবসে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যান প্রায়শ্চিত্ত হবে, সম্মান রক্ষাও হয়ে যাবে। ‘

অন্যদিকে বঙ্গ বিজেপির এই দাপুটে নেতা ‘ঝালমুড়ি’ গান গেয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন। ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে তাঁর গান রেকর্ড করার একটি ভিডিও । এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে গায়ক দিলীপ ঘোষ এদিন বললেন, ‘আপনারা গান রেকর্ডিং দেখেছিলেন, গান শোনেননি । আজকে গান শুনেছেন। সেটা আবার ভিডিও হবে। সেটাও লোকে দেখবে। আমাকে জোর করে গায়ক বানানোর চেষ্টা হচ্ছে তা আমিও চেষ্টা করেছি।’

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker