আমেরিকায় নয়, এসএসকেএম-এ চোখের চিকিৎসা! শর্তসাপেক্ষে অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ল হাইকোর্ট

AK Bangla Desk: আইনি জটিলতায় জড়িয়ে আরও বড় স্বস্তির সুযোগ হাতছাড়া হল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। চিকিৎসাজনিত কারণে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেনা হলেও তাতে সায় দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিল, রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনই বিদেশে পাড়ি দিতে পারবেন না তৃণমূলের এই প্রভাবশালী সাংসদ। বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালেই তাঁহাকে চিকিৎসা করানোর পরোক্ষ পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বিজেপির উদ্দেশে ‘ডিজে’ বাজানোর হুমকি মন্তব্য মামলাকে কেন্দ্র করে সোমবার এজলাসে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধে। অভিষেকের আইনজীবী সওয়াল করে আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানালে, আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত তার মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু কঠোর শর্ত। আগামী ২৯ জুলাই চোখের চিকিৎসার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিষেকের। আদালতের কাছে সেই অনুমতি চাওয়া হলেও বিচারকের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁদের।
এদিন শুনানিকালে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “কেন বিদেশে গিয়েই চোখের চিকিৎসা করাতে হবে? কলকাতায় তো চিকিৎসার জন্য একাধিক স্বনামধন্য হাসপাতাল রয়েছে।” বিচারপতি আরও জানান, রাজ্য সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম-এ অনায়াসেই তাঁর চিকিৎসা হতে পারে এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিতে পারে আদালত। যদিও অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের এই পর্যবেক্ষণের প্রবল বিরোধিতা করেন।
জবাবে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, আবেদনকারীর চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটানো আদালতের উদ্দেশ্য নয়। তবে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এসএসকেএম-এ চোখের নানাবিধ শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে তাঁর রিপোর্ট আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে বিদেশযাত্রার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। ২০১৬ সালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা হয়েছে। তবে আদালতের বর্তমান নির্দেশে আগামী দুই মাসের জন্য তাঁর বিদেশ সফর ঝুলেই রইল।



