‘টুলু’ কাণ্ডে মুখ খুললেন শুভেন্দু! পুলিশি অভিযানের খুঁটিনাটি জানিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বীরভূমে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুলিশি অভিযানের সাফল্যের প্রশংসার পাশাপাশি দুর্নীতি ও মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান নিয়ে কড়া বার্তাও দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বেআইনি সম্পদ গড়ে তোলা কিংবা জনসম্পদ লুটের অভিযোগে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)?
বুধবার এক্স মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, বীরভূমে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। তাঁর দাবি, মহম্মদবাজার এলাকায় অবৈধ বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নজিবুদ্দিনের ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ কেজি সোনাও উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ বাহিনীর কাজের প্রশংসা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ডিজিপি, বীরভূমের পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের অভিনন্দন জানান। তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “দ্রুত, পেশাদারিত্বের সঙ্গে এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে পুলিশ।”
এর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনসম্পদ লুট করে এবং তৎকালীন শাসকদলের মদতে অবৈধভাবে সম্পদ গড়ে তোলা কোনও ব্যক্তিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের সম্পদ জনগণেরই, তা লুট করলে আইনের সর্বোচ্চ কঠোরতার মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি সতর্কবার্তা দেন।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, আইন ভেঙে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও একইভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন :একই পদে টানা চাকরির দিন শেষ! ‘এই’ সরকারি কর্মীদের বদলি নীতিতে বড় পরিবর্তন সরকারের
প্রসঙ্গত, টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মনির মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। মনির মণ্ডল প্রসঙ্গে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত তিনি সরকারি বাসের চালক ছিলেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে পাথর ব্যবসায় যুক্ত হন এবং টুলু মণ্ডলের ব্যবসার বিভিন্ন দায়িত্ব সামলাতে শুরু করেন। উল্লেখ্য, বীরভূমে অবৈধ পাথর ও বালি ব্যবসার প্রসঙ্গে টুলু মণ্ডলের নাম নতুন নয়। অতীতেও একাধিক অভিযোগে তাঁর নাম উঠে এসেছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার উৎস, আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি এবং এই ঘটনায় আর কারও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।




