‘সব শেষ হয়ে গেছে’, অসমের বন্যা নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দেবলীনা ভট্টাচার্য

অসমে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের এই ভয়ঙ্কর বন্যায় ইতিমধ্যেই অন্তত ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের পরিবারের দুর্দশার কথা জানিয়ে আবেগঘন ভিডিও শেয়ার করেছেন টেলিভিশন অভিনেত্রী দেবলীনা ভট্টাচার্য।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে চোখের জল সামলাতে না পেরে দেবলীনা বলেন, “আমি খুব দুঃখিত। এতদিন কোনও ভিডিও করতে পারিনি, কারণ জানতাম কথা বলতে গেলেই ভেঙে পড়ব।” নিজের শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, শিবসাগর এবং নজিরা তাঁর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেখানেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, স্কুল-কলেজের পড়াশোনা—সবকিছু।
অভিনেত্রী জানান, তাঁদের পুরনো বাড়িটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এলাকায় থাকায় বড় ক্ষতি হয়নি। তবে তাঁর ঠাকুমার বাড়ি এবং পিসির বাড়ি সম্পূর্ণভাবে বন্যার জলে ডুবে গিয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, তাঁর মা এখনও নজিরাতেই আটকে রয়েছেন। দেবলীনা বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। আপনারা ভিডিওতে যেমন দেখছেন, চারদিকে শুধু ধ্বংস আর জল। মানুষের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় মুহূর্তের মধ্যে ভেসে গিয়েছে।”
শুধু নিজের পরিবারের কথা বলেই থেমে থাকেননি দেবলীনা। তিনি জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ইতিমধ্যেই ট্রাকভর্তি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি সকলকে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদনও করেছেন। তাঁর কথায়, এই দুর্যোগের সময়ে প্রত্যেকের সামান্য সহযোগিতাও বহু মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এদিকে অভিনেতা রণদীপ হুডাও সম্প্রতি বন্যাকবলিত শিবসাগর সফর করেছেন। সেখানে তিনি দুর্গত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন এবং ত্রাণকার্যে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে, অসম সরকারও বন্যাদুর্গতদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু করেছে। সোমবার সরকার প্রথম দফায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলার প্রায় ৭৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবারের বাড়িঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের পুনর্বাসন ও প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।



