বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর!AQI ছাড়াল ৪০০, বিষাক্ত বাতাসে হাঁসফাঁস অবস্থা শহরবাসীর

সবদিক নিউজ:দূষণের (Pollution) জেরে কার্যত দমবন্ধ অবস্থা পাকিস্তানের (Pakistan) লাহোরে (Lahore)। বায়ুদূষণের নিরিখে বিশ্বের সমস্ত শহরকে পিছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তানের এই শহর। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার লাহোরের বায়ুর গুণমান সূচক বা একিউআই (AQI) পৌঁছেছে ৪১০-এ। সাধারণত একিউআই ৩০০ পেরিয়ে গেলে সেই বাতাসকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করা হয়। সেখানে লাহোরের সূচক ৪১০ ছুঁয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু লাহোর নয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের একাধিক এলাকায় শীতের আগে থেকেই দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। অন্যদিকে, ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও দশেরার পর দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে পরিবেশবিদরা।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে লাহোর (Lahore)!
লাহোরে (Lahore) বায়ুদূষণের সমস্যা অবশ্য নতুন নয়। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শহর এবং তার আশপাশের এলাকায় ঘন ধোঁয়াশার চাদর দেখা যায়। শীতের মরশুমে বাতাসের গতিবেগ কমে যাওয়া এবং আবহাওয়ার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। তার সঙ্গে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলো এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পোড়ানোর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই সমস্যা ক্রমশ গুরুতর আকার নিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি এবং হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পারফিউমের ব্যবসার আড়ালে টেলিগ্রামে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ!মুম্বইয়ে গ্রেপ্তার ৩৩ বছরের যুবক
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোই ভাল। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। বাইরে বেরোতে হলে উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার এবং বাড়ির ভিতরে বাতাসের মান খারাপ থাকলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। যানবাহন ও শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলের ধুলো কমানো এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন। লাহোরের বর্তমান পরিস্থিতি সেই সমস্যাকেই ফের সামনে এনে দিয়েছে।
এদিকে, দশেরার পর দিল্লির বাতাসেও দূষণের মাত্রা বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে দশেরার পর এই সময়ে রাজধানীর বাতাসে দূষিত কণার পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দিল্লির একাধিক এলাকায় বাজি ফাটানোর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এর ফলে বাতাসে সূক্ষ্ম দূষিত কণা বা পিএম২.৫-এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। ফলে উৎসবের মরশুমে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষত, সামনে দীপাবলি থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

বড় সমস্যা মিটলো ভারতীয় দলের! হার্দিক পান্ডিয়ার অভাব ঢাকতে দুই ক্রিকেটারকে কাজে লাগাবেন গম্ভীর
দূষণের মাত্রা কতটা বাড়বে এবং তা কত দিন স্থায়ী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। বাতাসের গতি কম থাকলে দূষিত কণা দীর্ঘ সময় ধরে একই এলাকায় জমে থাকতে পারে। অন্যদিকে, বাতাসের গতি বাড়লে দূষণের ঘনত্ব কিছুটা কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আতশবাজি পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়া এবং রাসায়নিক উপাদান বাতাসে দূষিত কণার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী এই দূষণের প্রভাব কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লাহোরের বিপজ্জনক বায়ুমান এবং দিল্লির ক্রমবর্ধমান দূষণ ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে, বায়ুদূষণ কোনও একটি শহরের সমস্যা নয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে হলে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপও জরুরি (Lahore)।




