Anubrata mondal’s nephew is out at Birbhum with a dhaak

একসময় বীরভূমে রাজনীতিতে তাঁর কণ্ঠস্বরই ছিল শেষ কথা। রাজনৈতিক মঞ্চে হোক কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) সংলাপ, ভঙ্গি, হুঁশিয়ারি ছিল রাজনৈতিক অভিধান। ‘চড়াম চড়াম ঢাক’, ‘গুড়-বাতাসা’, ‘নকুলদানা’-এই শব্দবন্ধগুলি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, একসময় তা হয়ে উঠেছিল বীরভূমের ক্ষমতার প্রতীক। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য নিয়ে যেমন বিতর্ক হয়েছে, তেমনই অনুগামীদের কাছেও তা ছিল শক্তির প্রকাশ। কিন্তু সময় বদলেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বদলে গিয়েছে বীরভূমের রাজনৈতিক রংও। ছাব্বিশের মহারণের ফল ঘোষণার পর জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে যে পরিবর্তনের ছবি সামনে এসেছে, তা অনেকের কাছেই ছিল অকল্পনীয়। এরপরেই রবিবার বোলপুরের নিচুপট্টি ২২ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা গেল একেবারে অন্য ছবি! গেরুয়া আবির মেখে ঢাক কাঁধে হাজির অনুব্রত মণ্ডলের ভাইপো।
এই বিষয়ে আরও খবর
একসময় এই এলাকায় অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিজেপির জয়ের পর এলাকাজুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। গেরুয়া আবির, দলীয় পতাকা, স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। তবে সবথেকে বেশি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অনুব্রত মণ্ডলের নিচুপট্টির বাড়ির সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত। সেখানে ঢাক বাজিয়ে সমস্বরে ‘চড়াম চড়াম’ স্লোগান তুলতে দেখা যায় তাঁদের। রাজনৈতিক প্রতীকের ভাষায় যেন ফিরিয়ে দেওয়া একসময়ের বহুল চর্চিত সংলাপ।
তবে ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে অনুব্রত মণ্ডলের পরিবারের এক সদস্যের উপস্থিতি। সুমিত মণ্ডল, যিনি বর্তমানে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা হিসেবে পরিচিত। সম্পর্কে তৃণমূল নেতার ভাইপোও বটে। তিনিও রবিবার অংশ নেন সেই বিজয় মিছিলে। শুধু উপস্থিতিই নয়, অনুব্রতর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ঢাক বাজানোর উচ্ছ্বাসেও সামিল হন সুমিত মণ্ডল। যে পরিবারের নাম দীর্ঘদিন তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটির প্রতীক ছিল, সেই পরিবারের সদস্যের হাতেই গেরুয়া পতাকা! এই দৃশ্যই স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা দিয়েছে।
সুমিত মণ্ডলের কথায়, ”এখন তৃণমূল অতীত। জেলাজুড়ে শুধুই গেরুয়া ঝড়।” তাঁর এই মন্তব্যেই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে জেলার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। অন্যদিকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দাবি, এই বিজয় মিছিল কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাপট, ভয় এবং একদলীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তাঁদের মতে, এই উচ্ছ্বাস রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক। স্থানীয় নেতৃত্বের কথায়, বীরভূমে এখন শুধু ভয় নয়, হবে উন্নয়ন।
এই বিষয়ে আরও খবর
শেয়ার
লিংক



