Debangshu Bhattacharya Removed From TMC Social Media Cell

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত অন্তর্ধানে চলে গিয়েছিলেন দলের আইটি সেলের অন্যতম প্রধান কারিগর তথা যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। কিন্তু সম্প্রতি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও পার্থ ভৌমিকদের দলবদলের পর নিজের ফেসবুক ওয়ালে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পুরোনো ভুল ও নীতি নিয়ে এক বিস্ফোরক পোস্ট করেছিলেন তিনি। আর সেই মেগা পোস্টের ২৪ ঘণ্টাও কাটতে পারল না, তার আগেই দেবাংশুর বিরুদ্ধে চরম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের (TMC Social Media Cell) রাজ্য চেয়ারপারসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে এক লহমায় সরিয়ে দেওয়া হলো দেবাংশুকে। তাঁর জায়গায় নতুন চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপাসনা চৌধুরীকে (Upasana Choudhury)।
বিতর্কিত মন্তব্য আর বেসুরো অবস্থানই কি কাল হল?
২০২১ সালের ‘খেলা হবে’ (Khela Hobe) স্লোগান দিয়ে রাতারাতি লাইমলাইটে আসা দেবাংশু ভট্টাচার্য ছিলেন তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান স্তম্ভ। কিন্তু ছাব্বিশের ভোটে বঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি। তবে দলের এই চরম সংকটের মাঝেও সুদীপ-সায়নীদের দলবদল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতে গিয়ে নিজের দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘুরিয়ে কাঠগড়ায় তোলেন দেবাংশু।
তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, “দল ২০২১ সালে বেইমানদের রেড কার্পেট পেতে স্বাগত জানিয়েছিল, বিপদে দল ছাড়লেও ভাল সময়ে রাজত্ব করা যায়, এই বার্তাই আজকের পরিণতির মূল ভিত।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের জুনে দাঁড়িয়ে দলের এই মহা-ভাঙনের আবহে দেবাংশুর এই ‘বেসুরো’ আত্মোপলব্ধি এবং বিতর্কিত মন্তব্যকে একেবারেই ভালভাবে নেয়নি কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিট। ফলস্বরূপ, ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হলো আইটি সেলের ক্ষমতা।
দেবাংশুর জায়গায় মমতার ‘আস্থাভাজন’ উপাসনা
দলের তরফ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া সেলের দায়িত্বভার এখন থেকে সামলাবেন উপাসনা চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের ডিজিটাল ও সোশাল মিডিয়া উইংয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। সুব্রত বক্সি ও মমতাপন্থী শিবিরের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং অনুগত কর্মী হিসেবে পরিচিত উপাসনাকে দেবাংশুর বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়ে দল স্পষ্ট বার্তা দিল, এই চরম দুর্দিনে যারা দলের নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলবে, তাদের কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

প্রথমে সুদীপ-সায়নীর অপসারণ, তারপর কুণাল-অর্ণবের উত্থান এবং সবশেষে দেবাংশু ভট্টাচার্যের এই মেগা ‘উইকেট’ পতন, ছাব্বিশের জুনে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের এই একের পর এক অভ্যন্তরীণ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বঙ্গে জোড়াফুল শিবিরের চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অস্থিরতাকেই নগ্নভাবে প্রমাণ করছে।



