0%

NEET-এর নম্বর ছাড়াও এবার ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রয়োজন দ্বাদশের ফলাফলও? কী পরিকল্পনা কেন্দ্রের?

সবদিক নিউজ:ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন পূরণের অন্যতম প্রবেশদ্বার নিট (NEET) পরীক্ষা গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল, তদন্ত এবং সেই জেরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি তোলে, অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে একাধিক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে আসে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে নিট পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র সরকার বলে সূত্রের খবর।

NEET-এর নম্বর ছাড়াও এবার ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রয়োজন দ্বাদশের ফলাফলও!

এই উদ্দেশ্যেই শিক্ষা মন্ত্রক একটি ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে, যার মূল কাজ নিট (NEET) এবং জেইই (JEE)-এর মতো সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার বর্তমান কাঠামো খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলি ক্রমশ কোচিং সেন্টার নির্ভর হয়ে উঠেছে। বহু শিক্ষার্থী স্কুলের নিয়মিত পড়াশোনার তুলনায় কোচিংয়ের উপর বেশি নির্ভর করছেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অসাধু চক্রের সক্রিয়তা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রকৃত মেধার মূল্যায়নের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যেই কমিটি বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে।

 কান্না বন্ধ রাখতে শিশুদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ওয়াশিং মেশিনে! বেঙ্গালুরুর ডে কেয়ারে শিউরে ওঠার মতো ছবি

সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই কমিটি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট শিক্ষা মন্ত্রকের হাতে জমা দিতে পারে। সেই রিপোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নিটের চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরির ক্ষেত্রে শুধু প্রবেশিকা পরীক্ষার নম্বর নয়, দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার ফলও সমান গুরুত্ব পেতে পারে। অর্থাৎ, নিট পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ৫০ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ৫০ শতাংশ মিলিয়েই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণের সুপারিশ করা হতে পারে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে নিট সম্পূর্ণ অনলাইন বা কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষায় রূপান্তরিত করার প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। এর ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি কমবে এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিট নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিভিন্ন রাজ্য থেকেও বিকল্প ব্যবস্থার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু দীর্ঘদিন ধরেই নিটের বিরোধিতা করে আসছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয় প্রকাশ্যে বলেন, মেডিক্যালে ভর্তির জন্য নিট ব্যবস্থা তুলে দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, ২০১৭ সালের আগে তামিলনাড়ুতে দ্বাদশ শ্রেণির নম্বরের ভিত্তিতেই মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতো এবং সেই ব্যবস্থাই অধিকতর ন্যায্য ছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্র নিট বাধ্যতামূলক করার পর রাজ্য বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিল পাশ করা হলেও তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি। তবে এবার যদি বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকে নিটের মূল্যায়নের অংশ করা হয়, তাহলে তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের দাবির একটি অংশ বাস্তবায়িত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 ভবিষ্যতের যুদ্ধে ভারত পাবে দুর্গা-কালীর শক্তি! শত্রুদের পরাস্ত করতে তৈরি মোক্ষম মারণাস্ত্র

যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার এই প্রস্তাবগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি, তবুও শিক্ষা মহলে এই সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকে গুরুত্ব দিলে স্কুলশিক্ষার মান ও নিয়মিত পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়বে এবং কোচিং নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে। আবার অন্য অংশের আশঙ্কা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় সমতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ এবং তার ভিত্তিতে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ নিট (NEET) পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গোটা শিক্ষা মহল।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker