PoK-তে মৃত্যুমিছিল! পাক সেনার অভিযানের নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল রাষ্ট্রপুঞ্জ

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan occupied Kashmir) পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ উঠছিল। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) মানবাধিকার দফতর। জেনিভা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক পিওকে-তে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে অঞ্চলে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
PoK (Pakistan occupied Kashmir)-তে পাক সেনার অভিযানের নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল রাষ্ট্রপুঞ্জ:
গত কয়েক মাসে পিওকে (Pakistan occupied Kashmir)-র বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হয়েছে। প্রথমদিকে আন্দোলনের মূল কারণ ছিল মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত কর আরোপ এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছিলেন, লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শুরুতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জুন মাস থেকে সংঘর্ষ ও অভিযানের জেরে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও অধিকাংশই আন্দোলনকারী বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলির প্রত্যেকটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।
আরও পড়ুন: ৩২ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা! ২১ জুলাইয়ের আমন্ত্রণ পেল না শহীদ পরিবার
পিওকে-র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠা জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ এই পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভলকার টুর্কের বক্তব্য, নাগরিক সমাজ থেকে উঠে আসা কোনও সংগঠনকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা বা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সীমাবদ্ধ করা মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেছেন, আটক ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকারও বজায় রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের বিবৃতিতে ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এর আগে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের মতে, তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া বা নাগরিকদের মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে ইন্টারনেট পরিষেবা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।

আরও পড়ুন: আজ ফাইনালে মেসিকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা স্পেনের কোচের! তবে ফেভারিট হিসেবেই নামবে আর্জেন্টিনা
এদিকে পাকিস্তান (Pakistan occupied Kashmir) সরকার আন্দোলনের পিছনে বাইরের প্রভাবের অভিযোগ তুললেও সেই দাবির পক্ষে এখনও কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের একাংশ ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, দমননীতি এবং রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিক্ষোভ ও মিছিল অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্য উদ্বেগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পিওকে-র বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নেও আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।




