0%

Soham Chakraborty: পর্দা থেকে রাজনীতি, সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে অভিনয়ে সুযোগ, ফিরে দেখা যাক সোহমের যাত্রা

‘মা একটু হরলিক্স দাও না…’, রাজনীতির মঞ্চে আসার আগে সোহম চক্রবর্তীকে সবাই এই ডায়লগের কারণে যেমন চিনতেন, তেমনই ট্রোল করতেন। অনেক ছোট বয়সে অভিনয় জীবনের শুরু হলেও,  এখন তিনি বিধায়ক হিসেবে কিংবা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নাম ডাক করেছেন। হাজার সমালোচনায় জড়িয়েছেন। কখনও হোটেলের কর্মচারীকে চড় মেরেছেন। আবার কখনও, নিজের মন্তব্যের কারণে ফেঁসেছেন। তবে, রাজ চক্রবর্তীর প্রেম আমারের এই নায়ক সেসময় বেশ আলোচনায় ছিলেন। 

সাধারণত খুব একটা হিট ছবিতে তাকে দেখা যায়নি। হাতে গুণে কয়েকটা। প্রযোজনা সংস্থা শুরু করেছিলেন, তাতেও খুব এক্তা লাভ করেননি। কিন্তু, রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই কেল্লাফতে। ২০১৬ সালে বড়জোড়া থেকে বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু জিততে পারেননি। ২০২১ সালে চন্ডীপুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেই জয়লাভ করেন। আর এবার, তাঁর বিধানসভা আবারও বদলেছে। নদীয়ার করিমপুর থেকে এবার দাঁড়াচ্ছেন তিনি। শুরু করেছেন প্রচার-ও। কিন্তু, অভিনেতা সোহমের কেরিয়ার ছিল টার্ন অ্যান্ড টুইস্টে বাঁধা। 

Rudranil Ghosh: ‘তোলাবাজি ছাড়া কিছু বোঝে না”, শিবপুরে তৃণমূলকে আক্রমণ বিজেপি প্রার্থী রুদ্রর

Advertisment

ফিরে দেখা যাক। সোহম চক্রবর্তী বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক পরিচিত নাম, যিনি খুব অল্প বয়সেই অভিনয় জগতে পা রাখেন। ১৯৮৮ সালে জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র ‘ছোট বউ’-এর মাধ্যমে তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে টলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ‘মাস্টার বিট্টু’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘মঙ্গলদীপ’ (১৯৮৯), ‘নয়ন মণি’ (১৯৮৯), ‘জোয়ার ভাটা’ (১৯৯০), এবং সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘শাখা প্রশাখা’ (১৯৯০)। এছাড়াও ‘ভাগ্য দেবতা’ (১৯৯৭)-তেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ‘জোয়ার ভাটা’ ও ‘শাখা প্রশাখা’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি দু’বার বর্ষসেরা শিশুশিল্পী হিসেবে উত্তম কুমার পুরস্কার পান।

পরবর্তীকালে তিনি টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। বি.কম (অনার্স) সম্পন্ন করার পর, তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘চাঁদের বাড়ি’ (২০০৭) ছবিতে অভিনয় করেন। তবে প্রধান নায়ক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘বাজিমাত’ (২০০৮) ছবির মাধ্যমে। এরপর  রাজ পরিচালিত ‘প্রেম আমার’ (২০০৯) ছবিতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, যা একটি ব্লকবাস্টার হিট হয়।

Hiraan Chatterjee: ‘আমি মালা পড়তে আসিনি’, শ্যামপুরে উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুগ্ধ হিরণ চট্টোপাধ্যায়

এরপর ‘অমানুষ’ (২০১০) ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। পাশাপাশি ‘ফান্দে পোরিয়া বগা কান্দে রে’, ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’, ‘বাঙালি বাবু ইংলিশ মেম’ প্রভৃতি ছবিতে অভিনয় করে তিনি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা পান। ‘জামাই ৪২০’, ‘কাঠমুন্ডু’, ‘জিও পাগলা’, ‘হানিমুন’ ও ‘থাই কারি’—এইসব কমেডি ও পারিবারিক ছবির মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। দেবের সঙ্গে ‘শুধু তোমারি জন্য’ (২০১৫) ছবিটিও বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়। পাশাপাশি তিনি একাধিক রিয়েলিটি শো সঞ্চালনা ও বিচারকের ভূমিকায় থেকেছেন, যেমন ‘ডান্স ডান্স জুনিয়র’, ‘পাড়ার সেরা বৌঠান’। 

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker