TMC panchayat leader made luxurious galaxy house, arrested from Khardah

এ যেন সলমন খান! হাবেভাবে সুপারস্টার, কাজে শুধুই মস্তানি! হুমকি দিয়ে, তোলাবাজির টাকা আদায় করে তৈরি করেছিলেন প্রাসাদোপম ‘পি গ্যালাক্সি হাউস’। তার বাজারমূল্য নির্ধারণ করতে বসলে হিসেবের জল গড়াবে বহু দূর। তবে এভাবে তো আর বেশিদিন রাজত্ব করা যায় না! সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা ভোটে তৃণমূল সরকার ভূপতিত হতেই তোলাবাজি, হুমকির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার খড়দহের তৃণমূল নেতা, বন্দিপুরের পঞ্চায়েত উপপ্রধান তথা গ্যালাক্সির মালিক প্রসেনজিৎ সাহা। বৃহস্পতিবার রহড়া থানার পুলিশ প্রসেনজিৎকে সাহাকে গ্রেপ্তার করে বারাকপুর আদালতে পেশ করবে।
প্রসেনজিৎ সম্পর্কে এলাকার রাজনৈতিক মহলে যা খবর, তা হল, পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদের ক্ষমতা দেখিয়ে লাগাতার তোলাবাজি, হুমকির মতো কাজে সে লিপ্ত তো ছিলই। এছাড়া কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু’ধারে বিস্তৃত জলাজমি ভরাট করে তা চড়া দামে বিক্রির গুরুতর অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এলাকায় প্রসেনজিতের দাপট দিনদিন বাড়তে থাকে। বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তা কানে তোলেননি। নিজের পদাধিকার বলে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য চালিয়ে যাচ্ছিল। গত ২৯ এপ্রিল খড়দহে ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর ‘গ্যালাক্সি’তে তল্লাশি চালিয়েছিল গ্রেপ্তারির জন্য। কিন্তু প্রসেনজিৎকে পাওয়া যায়নি, ফেরার ছিল সে। এবার তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

বন্দিপুরের তৃণমূল উপপ্রধান গ্রেপ্তার হওয়ার পর চর্চায় তাঁর বাড়ি ‘পি গ্যালাক্সি হাউস।’ প্রাসাদ, বিলাসবহুল হোটেলের সঙ্গে তুলনা করলেও কম হয়। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে অন্দরমহল, সাত তারা হোটেলকেও হার মানায়! কাঠের দামি দামি আসবাব, তুলতুলে গদির বিছানা, জানলা-দরজার পর্দা রীতিমতোয় শৌখিনতার পরিচয় দেয়। দীর্ঘ প্রবেশপথ পেরিয়ে ঘরে ঢুকলে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার উপক্রম!

শোনা যায়, তোলাবাজির টাকায় ধীরে ধীরে এত বড় প্রাসাদ বানিয়েছে সে, যার দাম কয়েক কোটি টাকা। অর্থাৎ পুরোটাই অবৈধভাবে তৈরি। এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ভুরি ভুরি অভিযোগ সত্ত্বেও এতদিন খুল্লামখুল্লা ‘রাজ’ করেছিল প্রসেনজিৎ। এবার রহড়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠাল। নতুন সরকারের আমলে এ ধরনের তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাজের ইতি ঘটবে, তা আগেই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার হাতেনাতে তা কার্যকর হচ্ছে।
শেয়ার
লিংক



