0%

TMC Rebel MP: ২০ নম্বর আকবর রোডে নাটকীয় প্লট পরিবর্তন! বিদ্রোহীরা ঢোকার আগেই স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়ে কী মনে করালেন অভিষেক?

স্পিকার ওম বিড়লার বাড়ির সামনে সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদImage Credit: TV9 Bangla

নয়া দিল্লি: রাজধানীতে এই মুহূর্তে টান টান নাটক। দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। আজই তাঁদের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁদের। তার আগে নাটকীয় পট পরিবর্তন। লোকসভার স্পিকারের বাসভবনে মমতা শিবিরের দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ।

নাটকীয় মোড়

দিল্লির ২০ নম্বর আকবর রোড! লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবন। দুপুরের পর থেকেই সেখানে সাংবাদিকদের ভিড়। তীক্ষ্ণ নজর স্পিকারের বাসভবনের বাইরে। যে কোনও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা সেখানে আসতে পারেন। কিন্তু বিকাল পৌনে ছ’টা নাগাদ হঠাৎ প্লট পরিবর্তন। সেখানে হঠাৎই উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা শিবিরের দু’জন সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ। বিনা অ্যাপয়েন্টমেন্টে স্পিকারের কাছে মমতার তরফে যান তাঁরা।  স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন তাঁরা। দেখা না হলে নিজেদের মেমোরান্ডাম জমা করে রিসিভ করিয়ে নিয়ে যাবেন।

কী বলছেন মমতা-পন্থী সাংসদরা?

সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, “ওঁরা একটা আলাদা গ্রুপ, আলাদা জোট বানানোর চেষ্টা করছেন। এটা সংবিধান বিরুদ্ধ। সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দল অবিভাজ্য। সেটা ভাঙা সম্ভব নয়। হাউজ়ের মধ্যে অন্য একটা জোট বানানো একেবারেই সংবিধান বিরোধী। এটা আমরা স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা স্পিকারকে চিঠি দিয়েছি।”

স্পিকারের বাসভবন থেকে বেরিয়ে  কীর্তি আজাদ সংবিধানের অনুচ্ছেদ মনে করিয়ে বলেন, “সংবিধানের ১০এর ৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনও দল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। মহারাষ্ট্রে যেটা হয়েছে, ভুল হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েই আবেদন দিতে এসেছিলাম। সেটা দিয়ে এসেছি। স্পিকারের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে, তিনি আইন মেনেই কাজ করবেন।”

উল্লেখ্য, এদিন ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকে বসেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। এদিনের বৈঠকে যোগ দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

চিঠির বিষয়

এদিন সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদের তরফ থেকে যে চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারের কাছে, সেটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে লেখা। তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি একক ও অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল। লোকসভায় দলের সংসদীয় শাখা রাজনৈতিক দলেরই অংশ। আইনের দৃষ্টিতে একটিই তৃণমূল কংগ্রেস, একটিই দলনেতা এবং একটিই হুইপ রয়েছে, যাঁদের ক্ষমতা আসে দলের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে। কোনও সাংসদ বা সাংসদদের একটি অংশ নিজেদের ইচ্ছামতো আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে স্বীকৃতি দাবি করতে পারেন না।

শিবসেনা-মামলা উল্লেখ

সেক্ষেত্রে অভিষেক সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান বেঞ্চের রায় উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালে  সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারির মামলায় যে রায় দেওয়া হয়, সেটি এক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলেও উল্লেখ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সংবিধান বেঞ্চ তখন স্পষ্ট করে দিয়েছিল।  সংবিধানের ৯১তম সংশোধনের পর দশ নম্বর শিডিউলের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল হয়েছে। ফলে দল ভেঙে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করার আইনি সুযোগ নেই।

দ্বিতীয়ত: দলনেতা ও হুইপ নিয়োগের অধিকার রাজনৈতিক দলের, সংসদীয় দলের নয়। তাই কোনও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের নেতা বা হুইপ ঘোষণা করতে পারে না।

তৃতীয়ত: যদি একাধিক গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত দল বলে দাবি করে, তবে স্পিকারকে প্রকৃত রাজনৈতিক দল নির্ধারণ করতে হয়, আলাদা গোষ্ঠীকে স্বাধীন স্বীকৃতি দেওয়ার সংবিধান নেই।

এক্ষেত্রে চিঠিতে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে,  সংবিধানের দশ নম্বর শিডিউল অনুযায়ী, বৈধভাবে পুনর্গঠন বা পুনর্বিন্যাসের একমাত্র পথ হল মার্জার। এর জন্য শর্ত রয়েছে। আইনসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সেই সংযুক্তির পক্ষে থাকতে হবে।

চিঠিতে অভিষেকের তরফে আবেদন করা হয়েছে, এই ধরনের কোনও আবেদন অন্য তরফ থেকে এলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হোক।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker