অপরূপা পোদ্দারের বাড়ি ঘিরল কেন্দ্রীয় বাহিনী! প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের স্বামী সাকির আলিকে তুলল NIA

সবদিক নিউজ: মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ আচমকাই রিষড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলির বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানরা। লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের পর রাজ্যে যখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এনআইএ-র এই হাই-প্রোফাইল অ্যাকশনে শোরগোল পড়ে গিয়েছে হুগলি জেলা তথা গোটা রাজ্য রাজনীতিতে। ২০২৩ সালে রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রিষড়ায় যে ভয়াবহ বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ এবং সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তার পেছনে এই তৃণমূল কাউন্সিলরের সরাসরি উসকানি ছিল বলে অভিযোগ। দীর্ঘ তিন বছর ধরে তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ের পর অবশেষে এদিন তাঁকে জালে তুলল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
দিলীপ ঘোষের মিছিলে হামলা, রিষড়ায় কারফিউ, অবশেষে কি ৩ বছর পর মিলবে বিচার?
২০২৩ সালের সেই কালরাতের কথা এখনও ভোলেনি রিষড়াবাসী। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল রিষড়া। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, সেখানে শান্তি ফেরাতে বেশ কয়েকদিন জারি রাখতে হয়েছিল কারফিউ। সেই সময় তৎকালীন শাসক দলের জনপ্রতিনিধি এবং তৃণমূল সাংসদের স্বামী হওয়ার সুবাদে সাকির আলির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়লেও ক্ষমতার দাপটে কোনও বিচার হয়নি। ২০২৪-এর লোকসভায় অপরূপা টিকিট না পেলেও সাকিরের দাপট কমেনি। তবে এবার ছাব্বিশের ভোটের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই হিসাব চুকোতে আসরে নামল এনআইএ।
শুভেন্দু সরকারের ‘গুন্ডাদমন বিল’ পাসের পরই কি শুরু হল একের পর এক গ্রেফতারি?
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ভরাডুবির পর একের পর এক পুরসভা হাতছাড়া হলেও রিষড়া পুরবোর্ডের ক্ষমতা কোনওমতে টিকিয়ে রেখেছিল জোড়াফুল শিবির। ফলে সাকির আলির দাপট রিষড়ায় অক্ষুণ্ণই ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বিধানসভায় কড়া ‘গুন্ডাদমন বিল’ পাশ করিয়ে বার্তা দিয়েছিল যে, কোনওরকম সাম্প্রদায়িক উসকানি বা গুন্ডামি আর বরদাস্ত করা হবে না। এই নতুন আইন আসার আবহে পুরনো হিংসার মামলায় সাকিরের এই গ্রেফতারি তৃণমূলের জন্য এক বিরাট ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



