0%

ইরানকে ঘিরতে চাইছেন ট্রাম্প? পাল্টা তৈরি তেহরানের আন্ডারগ্রাউন্ড ‘মিসাইল ম্যাগাজিন’

কী পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?Image Credit: Social Media

ইরান ভেনেজুয়েলা নয়! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হলে অন্তত সাতদিনের রসদ দরকার। সেনাকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্দেশ পেয়েই ইরানমুখী দ্বিতীয় রণতরী- USS জেরাল্ড ফোর্ড। ইরানকে ঘিরতে হরমুজ প্রণালিতে আধ ডজন মার্কিন রণতরী পাঠাবেন ট্রাম্প। অন্তত ৬টি মার্কিন রণতরী এখন ট্রাম্পের নির্দেশে হয় ইরানমুখী, নইলে ইতিমধ্যেই ইরানের আশপাশে মোতায়েন। USS আব্রাহাম লিঙ্কন ছাড়াও তেহরান-মুখী USS জেরাল্ড ফোর্ড। মোতায়েন USS ফ্র্যাঙ্ক পিটারসন, USS ম্যাকফাউল, USS সান্টা বারবারা ও USS ক্যানবেরার মতো গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। তবে আব্রাহাম লিঙ্কনের পর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রণতরী-ই জেরাল্ড ফোর্ড। একবার জ্বালানি ভরলে এই রণতরীতে আগামি ২০ বছর আর জ্বালানি ভরতে হয় না। ১ হাজার ফুট লম্বা এই রণতরী একসঙ্গে ৮০টি-রও বেশি যুদ্ধজাহাজ-কে নিজের পেটে নিরাপদে রাখতে পারে।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক এই রণতরীর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য-

  • USS জেরাল্ড ফোর্ড
  • বিশ্বের অন্যতম বড়, পরমাণু জ্বালানি চালিত রণতরী
  • ৮০-৯০টি পঞ্চম জেনারেশনের যুদ্ধবিমানের ঘাঁটি
  • প্রতি ২০ সেকেন্ড অন্তর যুদ্ধবিমান ওড়ানোর ক্ষমতা
  • এই রণতরী রক্ষায় মার্কিন ‘সি-স্প্যারো’ মিসাইল সিস্টেম
  • বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে এর গায়ে মোটা ধাতব কবচ
  • রণতরীর নজরদারিতে হক-আই, সি-হক চপার
  • হামলার জন্য হর্নেট, এফ-৩৫সি-র মতো যুদ্ধবিমান

তবে USS আব্রাহাম লিঙ্কের পর আরও রণতরী পাঠালেও ট্রাম্পের মাথাব্যথা কিন্তু ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের ভান্ডার। দূরপাল্লার ‘এতিমাদ’ বা ‘কাসিম বশির’-এর মতো ইরানি মিসাইলকে কতটা ঠেকাতে পারবে মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ বা ‘থাড’-এর মতো ডিফেন্স সিস্টেম, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। কারণ, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তার কোনও পরীক্ষা হয়নি। একটাও ইরানি মিসাইল যদি ৫০০০ হাজার মার্কিন নাবিক-সহ USS ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ বা USS জর্জ বুশ-এর মতো রণতরীতে হামলা চালায়, তার পরিণতি হবে ভয়ানক।

একজনও মার্কিন নাগরিক বা সেনার মৃতদেহ মধ্য প্রাচ্য থেকে যদি আমেরিকায় ‘বডি-ব্যাগে’ করে ফেরে, তাহলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। তাই শুধু রণতরীতে ভরসা না রেখে যুদ্ধবিমানের বহর-ও পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প। আকাশপথে তেহরানে হামলা চালাতে বি-১, বি-২ ও বি ৫২-র মতো বোমারু বিমানকে ইতিমধ্যেই ইউরোপের সেনা ঘাঁটিতে পাঠিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। জর্ডন ও ইজিপ্টে মোতায়েন রয়েছে এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-১৮-এর মতো স্টেলথ ফাইটার জেট। ৯১-এ ইরাক অভিযানের আদলে মার্কিন বায়ুসেনা একটানা ইরানে বোমাবর্ষণে তৈরি হচ্ছে বলে অনুমান প্রাক্তন মার্কিন সেনাকর্তা ডগলাস ম্যাক গ্রেগরের। কিন্তু আজ মার্কিন সেনার ভাঁড়ারে একটানা ৪০ দিন যুদ্ধের রসদ রয়েছে কি না, সে নিয়েও সংশয় রয়েছে। সম্ভবত সেই কারণেই নেতানিয়াহুকে কাছে টানতে চাইছেন ট্রাম্প। ম্যাক গ্রেগরের আরও আশঙ্কা, খামেনেই সরকারকে উৎখাতে আমেরিকা-ইজরায়েল একযোগে হামলা চালালে এগিয়ে আসতে রাশিয়া ও চিন। সেক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে বেঁধে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই রুশ অস্ত্র ও চিনা প্রযুক্তি তেহরানে নিয়মিত সরবরাহ হচ্ছে বলে খবর সামনে এসেছে।

এদিকে, ট্রাম্প যতই নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ইরানকে হুমকি-হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, ততই ইরান-ও যেন বেঁকে বসছে। দুপক্ষের কেউ-ই একচুলও পিছিয়ে আসতে রাজি নয়। ইরানি সেনাকর্তারা প্রকাশ্যেই হুমকি দিচ্ছে ট্রাম্পকে। হাজার হাজার ব্যালিস্টিক, ক্রুজ মিসাইল, সোয়ার্ম ড্রোন লুকিয়ে রাখা ইরানের আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে। স্যাটেলাইট ছবি জানান দিচ্ছে, ইতিমধ্যেই পরমাণু গবেষণা ঘাঁটিগুলির খোলা মুখ মাটি, পাথর দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে ইরানি সেনা। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাছি সেনাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানি সেনাকর্তা মনে করিয়ে দিয়েছেন, গতবছর ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ‘ফাতাহ ২’-এর মতো হাইপারসনিক মিসাইল তেল অভিভের বুকে গিয়ে বিঁধেছিল। তছনছ করে দিয়েছিল ইজরায়েলি ডিফেন্স ও রেডার সিস্টেম। ১ থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার দূরেও হামলা চালাতে পারে ইরানি অস্ত্র ভান্ডারে রয়েছে ‘খোররামশাহ’, ‘সেজ্জিল’, ‘খাইবার শেকন’ মিসাইল।

গতবছর আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ অন্তত পাঁচটি ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল’ সিটি বানিয়েছে তেহরান। বন্দুকের ম্যাগাজিন থেকে যেভাবে পরপর গুলি বেরোয়, ঠিক একইভাবে এই আন্ডারগ্রাউন্ড ফেসিলিটিতে ‘মিসাইল ম্যাগাজিন’ বানানো রয়েছে। সেমি-অটোমেটিক সিস্টেমের সাহায্যে সেখান থেকে কয়েক সেকেন্ড অন্তর অন্তর মিসাইল ছোঁড়া যাবে ইরানের শত্রুদের বিরুদ্ধে। পণ্যবাহী ট্রেনের কামরা খালি করে সেগুলিতে এখন মিসাইল ঠেসে ভরে রেখেছে ইরানি সেনা। সবমিলিয়ে বারুদের স্তূপ তৈরি হয়েই রয়েছে। কোনও একপক্ষ সামান্য ফুলকি ধরালেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। আর এটাই হতে পারে বিশ্বের শেষ মহাযুদ্ধ-ও।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker